ইন্ডিয়া সমর্থনে ‘মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হোক’, শর্ত দিল বিএসপি

মায়াবতী (Photo: IANS)

লখনউ, ২৯ ডিসেম্বর– বিজেপি হটাও যুদ্ধ ঘোষণা করে ‘ইন্ডিয়া’ জোট সৃষ্টি করে প্রায় সমস্ত বিরোধী পক্ষকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। প্রথম দিকে সেই পথে অনেকটাই সফলও হয়েছিল তাদের চেষ্টা। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস তো ছিলই, যোগ দেয় সিপিএমও। বেশ কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অবশ্য এর থেকে দূরত্বও বজায় রাখে। যেমন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পাটনায়ক-বিএসপি প্রধান মায়াবতী প্রমুখ। এতদিন ইন্ডিয়া এবং এনডিএ দুই শিবিরের থেকেই দূরত্ব বজায় রাখছিলেন মায়াবতী। বিরোধী শিবিরের চেয়ে বেশি বিজেপির সুরই শোনা যাচ্ছিল তাঁর মুখে। তবে বর্তমানে নাকি নিজের অবস্থান বদলানোর ইঙ্গিত দিলেন বিএসপি সাংসদ। কিন্তু সেই ইঙ্গিতের পেছনে যে শর্ত দেওয়া হল তা ইন্ডিয়া জোটে নতুন জট তৈরির জন্য যথেষ্ট বলেই মত রাজনীতিকদের। বিএসপির সাংসদ মলুক নাগর দাবি করলেন, ‘ইন্ডিয়া জোটে তাঁদের বিশেষ আপত্তি নেই, শুধু মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করতে হবে’

তাঁর দাবি, ইন্ডিয়া জোট যদি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার কথা ভেবে থাকে তাহলে মায়াবতী বেশি ভালো বিকল্প হতে পারেন। খাড়গের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য মায়াবতী। বিএসপি সাংসদ মলুক নাগর এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেছেন, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা উচিত। একমাত্র সেটা করলেই ২০২৪-এ বিজেপিকে রোখা সম্ভব।”

মায়াবতীর দলের সিনিয়র নেতা বলছেন, “কংগ্রেস যদি কোনও দলিতকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসাবে চায় তবে মায়াবতীই সেরা।” তাঁর ইঙ্গিত এই শর্ত মেনে নিলে বিএসপি ইন্ডিয়া জোটে ঢুকে পড়তে পারে, সেক্ষেত্রে ‘বেহেনজি’ ইন্ডিয়াকে সদর্থকভাবে দেখবেন। মলুক নাগর বলছেন, একাধিক রাজ্যে বিএসপির ভোটব্যাঙ্ক আছে। শুধু উত্তরপ্রদেশেই ১৩ শতাংশের বেশি ভোট রয়েছে। ফলে ৬০টির বেশি আসন জিততে পারে বিএসপি। বিএসপির ওই সাংসদ বলছেন, মায়াবতীর মূল রাগ কংগ্রেসের উপর। কংগ্রেসের উচিত বিএসপির বিধায়ক ভাঙানোর জন্য ক্ষমা চাওয়া। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, মায়াবতীকে ইন্ডিয়া জোটে নিতে আপত্তি নেই অখিলেশ যাদবেরও।


যদিও মায়াবতীর এই ‘অযৌক্তিক’ দাবি ইন্ডিয়া জোট সম্ভবত মানবে না। প্রথমত, ভোটের আগে কাউকে মুখ না ঘোষণা করাটা ইন্ডিয়া জোটের ঘোষিত নীতি। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের আসনরফা অনেক দূর এগিয়েছে। এর পর মায়াবতীকে জোটে জায়গা দিতে হলে সব সমীকরণ নষ্ট হবে।

উল্লেখ্য এটা প্রথম নয় যখন প্রধানমন্ত্রীর মুখ ঘোষণা নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ধাক্কা খেয়েছে। এর আগে নীতিশও পরোক্ষভাবে এই দাবি করেছিলেন। যদিও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাড়গেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে অবশ্য শরদ পাওয়ার সেই দাবি নাকচ করে বলেন, কাউকে মুখ না করেই লোকসভা জয় হাসিল করতে পারে জোট।