‘হিজাব’ আন্দোলনে জ্বলছে ইরান, পুলিশের গুলিতে নিহত ৫০

তেহরান, ২৪ সেপ্টেম্বর– এক কিশোরীর মৃত্যুতে শুরু হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এখন দাবানলের আকার  ধারণ করেছে ইরানে। আর সেই দাবানলে জ্বলছে ইরান । বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। হিজাব বিরোধী আন্দোলনে নেমে একের পর এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হচ্ছে পুলিশের গুলিতে। মাহশা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে নেমে পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেছে অন্তত ৫০ জনের।

ইরান সরকারের এখনও পর্যন্ত সরকার বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর কথা বললেও ইরানের হিউম্যান রাইটস স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন পুলিশের গুলিতে। জখম অনেক। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সরকার তার সঠিক হিসেব দিচ্ছে না। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, তেহরানের পরিস্থিতি সাঙ্ঘাতিক। ইরানের ৮০টি শহরে মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ।

হিজাবে মাথা ঢেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ২২ বছরের মেহসা আমিনি । কিন্তু সেটি আলগা করে জড়িয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে হয়েছিল পুলিশের। তাই গাড়ি থেকে বের করে রাস্তার উপরই গ্রেফতার করা হয় মেহসাকে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁর। বরং তিনদিনের মাথায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়। সেই নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশ জুড়ে ক্ষোভের আঁচ উত্তরোত্তর বাড়ছে। তেহরানের রাস্তায় রাস্তায় দেখা গেছে সেই গণক্ষোভের ছবি।


সরকারের কুশপুতুল জ্বালিয়ে, হিজাব পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। 

দেশের উত্তরের কুর্দিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন মেহসা। সেখান থেকেই প্রথম আন্দোলন ছড়াতে শুরু করে। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়েছে। গণহারে গ্রেফতারি চলছে। সমাজকর্মী এবং আন্দোলনকারীদের মারধর করা হচ্ছে। নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে পুলিশ। গতকাল অবধি ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল সরকার। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আন্দোলনকারীদের সমবেদনা জানালেও, রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ আন্তর্জাতিক মহলের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।