কানাডার উচ্চপদস্থ কূটনীতিককে দেশ ছাড়তে নির্দেশ, মোদী সরকারের পাশে কংগ্রেস

দিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর– খালিস্তানি ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের আরো অবনতি হলো উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার। সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার পরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে বাতিল করা হয় কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মেরি এনজির অক্টোবরের ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য মিশন। এর মধ্যেই কানাডায় এক মন্দিরে শিখ নেতা নিহত হওয়ার জের ধরে দেশটি থেকে ভারতীয় এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত কূটনীতিক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অ্যাজেন্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে আরো অবনতি হলো।

আর এরপর এবার কানাডার উচ্চপদস্থ কূটনীতিককে ৫ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে নির্দেশ দিল বিদেশ মন্ত্রক। বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে কানাডার কূটনীতিকরা। তাছাড়াও ভারতবিরোধী কাজের সঙ্গেও তাঁদের যোগ রয়েছে। সমস্ত বিষয়টি নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন বলেই কানাডার এক কূটনীতিককে পাঁচদিনের মধ্যে দেশে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খলিস্তানিদের আশ্রয় দিয়েছে কানাডা। সেদেশের ছত্রছায়ায় থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে খলিস্তানি জঙ্গিরা। কানাডার নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কেবল সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। কানাডাতেই খুন, মানব পাচার-সহ একাধিক অপরাধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কানাডাকে উদ্দেশ্য করে এমন কড়া বার্তা দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সেই সঙ্গে তলব করা হয়েছে ভারতে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতকেও।


কানাডা শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যায় ভারতের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত করবে বলে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এই ঘটনার পর দলীয় কোন্দল ভুলে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ খলিস্তানি জঙ্গি মৃত্যু ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সব সময় বিশ্বাস করে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের লড়াই আপসহীন হতে হবে। বিশেষ করে যখন সন্ত্রাস ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমাদের দেশের স্বার্থ এবং উদ্বেগ সর্বদা সর্বাগ্রে রাখতে হবে।’