দূষণহীন পলিমার দিয়ে প্যাড বানিয়ে চমক আইআইটির বিজ্ঞানীদের

দিল্লি, ১০ জুলাই– একসময় ছুৎমার্গ থাকলেও এখন আর মহিলাদের ঋতুস্রাব বিষয়টি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়. এ বিষয়ে শুধু কথা বলাই নয় নানান এক্সপেরিমেন্টেও এগিয়ে এসেছে গোটা বিশ্ব। এখন আর তামিলনাড়ুর ২০০৪ সালে  অরুণাচলম মুরুগনন্তমকে একঘরে হতে হয় না মহিলাদের জন্য সেনিটারি প্যাড বানানোর মেশিন বানিয়ে। তবে মুরুগনন্তম জানতেন একদিন এই কাজে এগিয়ে আসবে বৃহত্তর সমাজ। তাঁর ধারণা যে অমূলক ছিল না তার প্রমাণ ছড়িয়ে রয়েছে বর্তমান সমাজেই। ঋতুস্রাব এবং মহিলাদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সার্বিক স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এই কাজে এগিয়ে এসেছে দিল্লি আইআইটি ।

পরিবশবান্ধব স্যানিটারি প্যাড আগেও তৈরি হয়েছে। কলা পাতা বা চট দিয়ে প্যাচ বানিয়েছেন গবেষকরা। কিন্তু সিন্থেটিক পলিমার দিয়ে পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ন্যাপকিন আগে তৈরি হয়নি। এই ধরনের প্যাডের বৈশিষ্ট্য হল ব্যবহারের পরে ফেলে দিলে তা পরিবেশে দূষণ ছড়ায় না। পলিমার সবটুকু শোষণ করে নেয়। দিল্লি আইআইটির দুই গবেষক ডা. সবপ্যাথি এস এবং অধ্যাপক অনুপ কে ঘোষ সিন্থেটিক পলিমার দিয়ে প্রথমবার পরিবেশবান্ধ প্যাড তৈরি করলেন। এই প্যাডের নাম সেলিগো বায়োস্যাপ ।

ডা. সবপ্যাথি সেলিগো ন্যাচরাল ফাইবারস সংস্থার কর্ণধার। তিনি জানিয়েছেন, স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে রাস্তাঘাটে, আবর্জনা স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে দূষণ ছড়ায় পরিবেশে। বছরে অন্তত ১৩ হাজার টন ব্যবহার করা স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবেশে মিশছে। এই দূষণ রোখার জন্যই পরিবেশবান্ধব প্যাড তৈরি করা হয়েছে। এই প্যাড দেখতে অনেকটা রোল করা টয়লেট পেপারের মতো। যতখুশি ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া যায়। এর সিন্থেটিক সুপার অ্যাবজরবেন্ট পলিমার প্যাডের দূষিত রক্ত খুব দ্রত শোষণ করে নিতে পারে। ফলে পরিবেশে সেই ব্যবহার করা প্যাড ফেললেও তার থেকে দূষণ ছড়াবে না। গবেষকদের দাবি, এই ধরনের স্যানিটারি প্যাড স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল। অন্যান্য প্যাডের রাসায়নিক অনেক সময় ত্বকের ক্ষতি করে, কিন্তু সেলিগো বায়োস্যাপ স্যানিটারি ন্যাপকিন কখনওই ত্বকের ক্ষতি করবে না।


হিসেব করলে দেখা যাবে, এক একজন মহিলা তাঁর ঋতুচক্রে মোট ১২৫ কেজি নন-বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্য জমা করেন। সেই হিসেবে ভারতের অন্তত সাড়ে ৩৫ কোটি মহিলা কতটা জৈবিক বর্জ্য জমা করছেন, সেই সংখ্যাটা আকাশছোঁয়া।

গবেষকরা বলছেন, সেলিগো বায়োস্যাপ বায়োডিগ্রেডেবল প্যাড। বাজারচলতি স্যানিটারি প্যাডের অধিকাংশই তৈরি হয় নন-বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক দিয়ে। ফলে এক একটি ব্যবহার করা প্যাড মাটিতে মিশে যেতে ৫০০-৮০০ বছর লেগে যায়।