সাক্ষরতার হার লজ্জা পাকিস্তানের কাছে 

ইসলমাবাদ, ১২ সেপ্টেম্বর– সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার বেশ নিম্নগামী। সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে বিশ্ব যখন সাক্ষরতা দিবস উদযাপন করছে, তখন অসন্তোষজনক সাক্ষরতার পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের গর্ব করার মতো কিছুই নেই।।

পাক শিক্ষা সচিব ওয়াসিম আজমল চৌধুরীর মতে, ২০২২-২৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় প্রতিফলিত ৬২ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় প্রকৃত চিত্র ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখিত হার সর্বশেষ আদমশুমারির অনুপস্থিতিতে অনুমানকৃত পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে। তবে, তিনি বলেন, সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারি অনুসারে প্রকৃত সাক্ষরতার হার ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ গণনা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই সংখ্যাটি আগের প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশি ছিল, তাই কেউ বলতে পারে না যে দেশের সাক্ষরতার হার কমেছে।

তাই আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি নাও হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে পাঞ্জাব ৬৬ দশমিক ১ থেকে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ; সিন্ধুতে ৬১ দশমিক ১ থেকে ৬১ দশমিক ৮; খাইবার পাখতুনখোয়া ৫২ দশমিক ৪ থেকে ৫৫ দশমিক ১ এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে সাক্ষরতার হার ৫৩ দশমিক ৯ থেকে ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এটিকে ন্যূনতম অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি, শিক্ষা খাতেও সবচেয়ে কম তহবিল পাওয়া গেছে, যা সাক্ষরতার হার হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। একজন স্কুল শিক্ষকের মতে, ৬০ শতাংশ একটি সন্তোষজনক পরিসংখ্যান নয়, কারণ আমাদের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এখনো নিরক্ষর রয়ে গেছে। এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, পাকিস্তান শিক্ষা খাতে তার জিডিপির ২ শতাংশেরও কম ব্যয় করছে। 

জরিপে আরো বলা হয়েছে, ৩২ শতাংশ স্কুলবহির্ভূত শিশু রয়েছে, যেখানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। একইভাবে দেশে উচ্চশিক্ষার মানও নিম্নমুখী।