মানচিত্র প্রকাশ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চিন 

বেজিং, ১ সেপ্টেম্বর – ভারতের অরুণাচল প্রদেশ এবং আকসাই চিন-সহ আরও বিভিন্ন দেশের অংশকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে নয়া মানচিত্র প্রকাশ করেছে চিন। গত সোমবার, বেজিং-এর পক্ষ থেকে এই সরকারি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা চিনের এই সম্প্রসারণবাদী পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়। নয়া ম্যাপ প্রত্যাখ্যান করল এশিয়ার আরও চার দেশ। ভারতের পর একই প্রতিক্রিয়া জানাল  ফিলিপাইন্স, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ান সরকার। বৃহস্পতিবার, এই চার দেশের সরকারই চিনের এই নয়া মানচিত্র প্রত্যাখ্যান করে। বেজিং যেভাবে এই দেশগুলির এলাকা তাদের নিজের এলাকার অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করেছে, তার কড়া প্রতিবাদ করা হয়েছে এই দেশগুলির পক্ষ থেকে।  

জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের আগে নয়া মানচিত্র প্রকাশ করে ফের বিতর্ক উসকে দিয়েছে চিন। চিনা সরকার নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে যেখানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে নিজেদের দেশের অন্তর্ভুক্ত করে মানচিত্রে দেখানো হয়। ভারত ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের অংশকেও নিজেদের মানচিত্রে ঢুকিয়েছে চিন। এবার তারই প্রতিবাদে চিনা সরকারের কড়া সমালোচনা করল ভারত-সহ ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান।

ভিয়েতনাম সরকারের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, চিনের নতুন মানচিত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়েছে। স্প্র্যাটলি ও পারাসেল দ্বীপের এলাকাগুলি নিজেদের বলে দাবি করেছে চিন। এছাড়াও জলভাগের বেশ কিছু এলাকা মানচিত্রে চিনের অন্তর্ভুক্ত বলে দেখানো হয়েছে। চিনের এই দাবি সম্পূর্ণ অবৈধ। দক্ষিণ-চিন সাগর সংলগ্ন এলাকায় চিনা আধিপত্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার।


ফিলিপিন্স সরকারও চিনের ওই ‘স্ট্যান্ডার্ড ম্যাপের’ কড়া নিন্দা করেছে। ওই মানচিত্রে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরের বেশ কিছু অংশ চিনের অন্তর্ভুক্ত বলে দেখানো হয়েছে।ফিলিপিন্সের বিদেশ বিষয়ক মুখপাত্র মা তেরেসিতা দাজা বলেছেন, “ফিলিপিন্সের সামুদ্রিক অঞ্চলগুলির উপর চিন তার আধিপত্য বিস্তার করতে  চাইছে। ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের কনভেনশন অনুযায়ী, এর কোনও ভিত্তি নেই।” এর আগে ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক মানচিত্রে ফিলিপিন্সের কালায়ান দ্বীপ এবং স্প্র্যাটলিসের কিছু অংশ তাদের বলে দেখিয়েছিল চিন।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, চিন যেভাবে তাদের মানচিত্রে দক্ষিণ চিন সাগরের এলাকাগুলি নিজেদের বলে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সরকারিভাবে তার প্রতিবাদ করা হবে। তাইওয়ানের পুরো দ্বীপটি তাদের অংশ বলে দাবি করে চিন। মানচিত্রেও সম্পূর্ণ দ্বীপটি তাদের বলেই দাবি করা হয়েছে। মানয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, চিন কখনওই তাইওয়ান শাসন করেনি, কিন্তু জোর করে তাইওয়ানের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছে। তাইওয়ানের বহু এলাকাক নিজেদের বলে দাবি করেছে চিন। 

চিন এই মানচিত্র প্রকাশ করার পরদিন, মঙ্গলবার, ভারত সরকারিভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই ধরনের পদক্ষেপে সীমান্ত নিয়ে জটিলতা আরও বাড়বে। চিনের এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই বলে জানিয়ে দেয় বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “অযৌক্তিক দাবি করলেই অন্যদের এলাকা আপনার হয়ে যায় না। এই সম্মিলিত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে, জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের আগে চীন কি পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।