মেঘালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা-সহ ২২ জন  

শিলং, ২৬ জুলাই –  সোমবার রাতে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দফতরে হামলার ঘটনায় রিচার্ড মারাক গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে এ পর্যন্ত এক তৃণমূল নেতা-সহ মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মেঘালয় পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আগে থেকে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। চক্রান্তকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, তা-ও স্পষ্ট করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আগেই ২১ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি মহিলা মোর্চার দুই সদস্য।

মেঘালয়ে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার অফিসে হামলার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রিচার্ড মারাককে জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ প্রধান  এলআর বিষ্ণোই এ কথা জানান। তিনি বলেন, “২৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলায় যাঁরা চক্রান্ত করেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।” এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে মোট ২৬ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। হামলায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্যই তৃণমূল নেতা মারাককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি মেঘালয়ের তৃণমূল নেতা মুকুল সাংমার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। 

গত সোমবার মেঘালয়ের তুরায় মুখ্যমন্ত্রী সাংমার দফতরে হামলা চালায় কিছু মানুষ। পাথর ছুড়তেও দেখা যায় তাদের। তবে সংমার কোনও আঘাত লাগেনি। উল্লেখ্য, গারো পাহাড়ের নাগরিক সমাজের একটি সংগঠন বেশ কিছু দিন ধরেই অনশন করে চলেছে। তাদের দাবি, তুরাকে রাজ্যের শীতকালীন রাজধানী করতে হবে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর লক্ষ্য করে এক দল বিক্ষোভকারী পাথর ছুড়তে থাকেন। তাতেই আহত হন মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচ জন নিরাপত্তারক্ষী। আহতদের দফতরের ভিতরে নিয়ে আসা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটাতে হয়।


মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও তা উদ্বেগজনক। দফতর সূত্রে জানা যায়, প্রতিবাদীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনই তাঁর দফতর লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন কয়েক জন। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদীদের জানান, অনশন বন্ধ করলে পরের মাসে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে রাজধানী শিলঙে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রিসভার সদস্যেরা। শীতকালীন রাজধানী এবং চাকরিতে সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা হবে।একটি সূত্র বলছে, সোমবার প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রতিবাদীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সাংমা। তখন বাইরে থেকে কয়েক জন পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মারাক ২৩ জুলাই টাকা বিতরণ করেন ও ভিড়কে উস্কে দেন।  মারাক বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী কানরাড সাংমার বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে লড়াই করে হেরে যান।  পুলিশ জানিয়েছে, দুই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা যারা জনতাকে প্ররোচনা দিচ্ছিল তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।  কিন্তু তারা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।