Explained: ৩১ বছরের বিজেপি-দুর্গ ভেঙে চুরমার প্রশান্ত কিশোরের ছকে, তবু কেন হাসি নেই বিরোধীদের?

প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে উচ্ছ্বাস (ANI)

তিন রাজ্যের তিনটি উপনির্বাচনের (Bypoll) ফলে সবচেয়ে বড় চমক বিহারের বাঁকিপুর (Bankipur)। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা এই আসন ছিল বিজেপির (BJP) দখলে। সেই ৩১ বছরের দুর্গ এ বার ভেঙে দিলেন রাজনৈতিক কৌশলী থেকে দলনেতা হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। তবে এই একটি জয় দিয়েই গোটা ছবিটা বিরোধীদের পক্ষে যাচ্ছে, এমন বলার সময় এখনও আসেনি।

তিন দশকের দুর্গে ফাটল

বাঁকিপুর আসন, আগে যা পাটনা পশ্চিম নামে পরিচিত ছিল, বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। প্রথমে নবীন কিশোর প্রসাদ সিংহ, পরে তাঁর ছেলে নিতিন নবীন পরপর পাঁচ বার এই আসন থেকে জিতেছেন। নিতিন রাজ্যসভায় যাওয়ায় আসনটি ফাঁকা হয়। ঠিক সেই আসনেই এ বার নিজের জন সুরজ পার্টির (Jan Suraaj Party) হয়ে প্রথম বার সরাসরি ভোটে লড়েন প্রশান্ত কিশোর। ফল বেরোতেই দেখা যায়, বিজেপির নীরজ কুমারকে প্রায় ১৯,৩২৪ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী রয়েছেন তৃতীয় স্থানে।


কেন এই হার তাৎপর্যপূর্ণ

এই আসনটি বিজেপির কাছে সম্মানরক্ষার লড়াই ছিল, কারণ নিতিন নবীনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই জড়িয়ে ছিল এই আসনের সঙ্গে। দলের সাংগঠনিক শক্তি উজাড় করে দিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। ফল ঘোষণার পরে প্রশান্ত কিশোর নিজেই বলেন, এই জয় শুধু একটি আসনের বিধায়ক বেছে নেওয়ার লড়াই ছিল না, এটি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিহারের মানুষের সরাসরি বার্তা।

আরও পড়ুন: দুর্গ ধসে গেল বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের, বাঁকিপুরই কি জেন জি-র বদলাপুর?

দাতিয়া ও মঞ্জলপুরে মিশ্র ছবি

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া (Datia) আসনে অবশ্য বড় কোনও চমক নেই। ওই আসন আগে থেকেই কংগ্রেসের দখলে ছিল, এ বার কংগ্রেসপ্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ ফের সেটি ধরে রেখেছেন। উল্টো দিকে গুজরাতের মঞ্জলপুরে (Manjalpur) নিজেদের চেনা দুর্গ অক্ষত রেখেছে বিজেপি। প্রয়াত বিধায়ক যোগেশ পটেলের আসনে দলীয় প্রার্থী সতীশ পটেল বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।

তবু বিরোধীদের মুখে হাসি নেই

বাঁকিপুরের ফল বিজেপির জন্য অস্বস্তির হলেও এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব বিরোধী জোটের ঝুলিতে যাচ্ছে না। কারণ এই আসনে কংগ্রেস বা আরজেডি কেউই লড়াইয়ে ছিল না বললেই চলে। বরং জন সুরজ একাই বিজেপি-বিরোধী ভোট নিজের দিকে টেনে নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে বিরোধী শিবিরে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিজেপি-বিরোধী ভোট এক জায়গায় জড়ো না হয়ে তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেলে তার সুবিধা শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যাবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিহারের রাজনীতিতে।

মোদ্দা কথা

তিনটি আসনের ফল একসঙ্গে একপাতা রেখে যদি পড়া হয়, তবে এই বার্তা স্পষ্ট যে, বিজেপির জন্য এটি নিছক একটি আসন হারানোর ঘটনা নয়, বরং তিন দশকের রাজনৈতিক আধিপত্যে সরাসরি ধাক্কা। আবার ইন্ডিয়া জোটের জন্যও এই ফল সতর্কবার্তা। কারণ বিরোধী পরিসরে ভোট ভাগাভাগির অঙ্ক এই ছোট মাপের উপনির্বাচনে তেমন ভাবে নজরে না পড়লেও তার সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত সাদা চোখেই দেখা যাচ্ছে। ফলে কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন বা আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই বিষয়টি পাখির চোখ করে এগোনো উচিত বিরোধীদের।