Explainer: আগামী সপ্তাহেই ছুটবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন, রুট-ভাড়া সব তথ্য এখানেই

প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন (Pic-Ministry Of Railways)

ধোঁয়া নেই, কার্বন ফুটপ্রিন্ট নেই, শুধু জলীয় বাষ্প ছেড়ে ছুটবে ইঞ্জিন। দেশের রেল ইতিহাসে সত্যিই এক নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। আগামী ১৭ জুলাই হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ট্রেনের (hydrogen fuel cell train) উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জিন্দ থেকে সোনপথ, এই ৮৯ কিলোমিটার রুটেই প্রথম ছুটবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই পরিবেশবান্ধব ট্রেন।

যা জানা জরুরি

উত্তর রেলের (Northern Railway) দিল্লি ডিভিশনের জিন্দ-সোনপথ শাখায় চলবে এই ট্রেন। রেল বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিদিন এই রুটে চলবে দুটি ট্রিপ। ৭৪০১০ নম্বর ট্রেনটি জিন্দ থেকে সকাল সাতটা চল্লিশে ছেড়ে সোনিপথ পৌঁছবে সকাল ন’টা চল্লিশে। ফেরার পথে ৭৪০০৯ নম্বর ট্রেনটি সোনপথ থেকে ছাড়বে সকাল দশটা চল্লিশে, জিন্দ পৌঁছবে দুপুর একটায়। পথে থামবে জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেরা, ভাম্বেওয়া, ইশাপুর খেরি, বুটানা, খান্দরাই, গোহানা, রাভরা, লাথ, মোহনা হরিয়ানা এবং বারওয়াসনি স্টেশনে।


প্রযুক্তির চমক

চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (Integral Coach Factory, ICF) তৈরি এই দশ কামরার ট্রেনে রয়েছে দু’টি পাওয়ার কার, প্রতিটির ক্ষমতা ১২০০ কিলোওয়াট, অর্থাৎ মোট ক্ষমতা দাঁড়ায় ২৪০০ কিলোওয়াটে। হায়দরাবাদের মেধা সার্ভো ড্রাইভস (Medha Servo Drives) এবং কানাডার সংস্থা ব্যালার্ড পাওয়ার সিস্টেমসের (Ballard Power Systems) যৌথ উদ্যোগে বসানো হয়েছে ফুয়েল সেল প্রযুক্তি, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ তৈরি করে। লখনউয়ের গবেষণা সংস্থা আরডিএসও-র (RDSO) তত্ত্বাবধানে সদ্য সম্পন্ন হওয়া ট্রায়ালে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিও ছুঁয়ে ফেলেছে ট্রেনটি, যদিও যাত্রীবাহী পরিষেবায় গতি সীমাবদ্ধ থাকবে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। ব্রড গেজে এখনও পর্যন্ত এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন বলে দাবি রেল মন্ত্রকের।

ভাড়া কত, সময় কত লাগবে?

যাত্রীদের জন্য সুখবর, ভাড়া রাখা হয়েছে একেবারেই সাধারণ মানুষের নাগালে। টিকিটের দাম মাত্র ৫ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে। বর্তমানে ডিজেল মাল্টিপল ইউনিটে (DMU) এই রুটে সময় লাগে প্রায় দু’ঘণ্টা, হাইড্রোজেন ট্রেনে তা কমে দাঁড়াবে মাত্র এক ঘণ্টা। ৬৮২টি আসনের এই ট্রেনে মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ২৬০০ জন।

পরিবেশবান্ধব

জিন্দে তৈরি হয়েছে বিশেষ হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে পিইএম ইলেকট্রোলাইজার (PEM electrolyser) প্রযুক্তিতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে প্রায় ৪২০ থেকে ৪৩০ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেন, মজুত রাখা যাবে ৩০০০ কেজি পর্যন্ত। একবার জ্বালানি ভরলে ট্রেনটি চলতে পারবে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। নিরাপত্তার দিক থেকেও রাখা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা, ২৭টি হাইড্রোজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি বসানো হয়েছে লিক শনাক্তকারী যন্ত্র এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। গোটা পাইলট প্রকল্পে পরিকাঠামো-সহ খরচ হয়েছে প্রায় ১১১ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা।

দার্জিলিং টয় ট্রেনেও কি হাইড্রোজেন যুগ?

জিন্দ-সোনপথ রুট সফল হলে গোটা দেশে ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ (Hydrogen for Heritage) প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় রেলের, যার জন্য প্রতিটি ট্রেনে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা এবং প্রতি রুটে পরিকাঠামো বাবদ প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এই তালিকায় থাকা সম্ভাব্য রুটগুলির মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের (UNESCO World Heritage) স্বীকৃতি পাওয়া দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েও (Darjeeling Himalayan Railway), যা বাংলার পাহাড়ে পরিচিত টয় ট্রেন নামে। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী রুটে চলে মূলত ডিজেল ইঞ্জিন, তার সঙ্গে দার্জিলিং-ঘুম অংশে হেরিটেজ স্টিম ইঞ্জিনও চলে পর্যটকদের জন্য। ভবিষ্যতে এই তালিকায় নাম উঠলে উত্তরবঙ্গের এই বিশ্ববিখ্যাত পার্বত্য রুটও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ছোঁয়া পেতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।