নভেম্বর মাসেই নাকি শেষ হয়ে যাবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রেসিডেন্সি, অন্তত যেভাবে গোটা বিশ্ব তাঁকে চেনে। চাঞ্চল্যকর এই দাবি করে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার (California) গভর্নর গ্যাভিন নিউজম (Gavin Newsom)। আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্যতম শীর্ষ মুখ তথা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে যাঁর নাম জোরালো ভাবে ঘুরছে, তাঁর মুখে এমন মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
কী বলেছেন নিউজম
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে এএফপি-কে (AFP) নিউজম জানান, নভেম্বরে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের (House of Representatives) দখল আবার নিজেদের হাতে নেবেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁর কথায়, হিসেব বোঝার দিন এসে গিয়েছে, নতুন একটা দিন আসছে। এখানেই থেমে না থেকে তিনি সরাসরি বলে দেন, যেভাবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এখন চলছে, নভেম্বরেই তার ইতি ঘটবে। কভারিং ক্লাইমেট নাউ (Covering Climate Now) নামে একটি সাংবাদিকতা উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে অবশ্য নিউজম স্পষ্ট করে বলেননি, ডেমোক্র্যাটদের জয় ঠিক কীভাবে ট্রাম্পের ক্ষমতা কেড়ে নেবে।
সত্যিই শেষ হবে প্রেসিডেন্সি?
স্পষ্ট করে বলে রাখা ভালো, সাংবিধানিক ভাবে ট্রাম্পের মেয়াদ ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্তই বহাল থাকছে। নিউজমের মন্তব্য আক্ষরিক অর্থে প্রেসিডেন্সির অবসানের কথা বলছে না। তাঁর ইঙ্গিত মূলত ক্ষমতার ভারসাম্যের দিকে। রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসের এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত কমিটি বসানো থেকে শুরু করে বাজেট আটকে দেওয়া, এমনকি সাবপোয়েনা জারি করার ক্ষমতাও হাতে পাবে। ফলে ট্রাম্পের একচেটিয়া নীতিনির্ধারণে রাশ টানা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন তিনি। যদিও নির্বাহী ক্ষমতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদের প্রভাব তাতেও পুরোপুরি কমবে না, এই বাস্তবতাও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
সমীক্ষা কী বলছে
নিউজমের এই আত্মবিশ্বাসের পিছনে রয়েছে জেনেরিক ব্যালট (Generic Ballot) সমীক্ষার হিসেবও। সেপ্টেম্বরের একাধিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ভোটে রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশ কয়েক পয়েন্ট এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা। কোনও সমীক্ষায় এই ব্যবধান ছয় থেকে আট পয়েন্ট পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। ইতিহাস বলছে, মিডটার্ম (Midterm) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ভোট পড়ার প্রবণতা থাকে, আর সেই চেনা প্যাটার্নই এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে কাজ করতে পারে বলে ধারণা।
পাল্টা চাপে রিপাবলিকানরা
তবে লড়াই একতরফা নয়। রিপাবলিকানরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। টেক্সাসের (Texas) মতো রাজ্যে মেয়াদের মাঝপথে রিডিস্ট্রিক্টিং বা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের কৌশল নিয়ে ট্রাম্প শিবির আগেভাগেই আসন সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াতেও পাল্টা রিডিস্ট্রিক্টিংয়ের পথে হেঁটেছেন নিউজম নিজে। ফলে নভেম্বরের লড়াই যে সহজ হবে না, তা মানছেন দুই শিবিরের রাজনীতিকরাই।
২০২৮-এর ইঙ্গিতও স্পষ্ট
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প-পরবর্তী ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন নিউজম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের (JD Vance) তুলনায় যে কোনও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীই অনেক ভালো বিকল্প হবেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া অকাসিও-কোর্তেজকে (Alexandria Ocasio-Cortez) প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রতিভা বলে প্রশংসা করলেও, তাঁর বিরুদ্ধে নিজে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি নিউজম। জর্জিয়ার সেনেটর জন অসফের (Jon Ossoff) নামও ঘুরেফিরে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়।
শেষ কথা
নিউজমের মন্তব্যকে নিছক ভবিষ্যদ্বাণী বলবেন, নাকি ২০২৮-এর প্রচারের প্রথম ধাপ, তা নিয়ে বিতর্ক চলবেই। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন যে ট্রাম্প জমানার দ্বিতীয়ার্ধের দিশা ঠিক করে দিতে চলেছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই কারও।