শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার মধ্যে দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) আন্দোলন থামতে না থামতেই নতুন এক ডিজিটাল আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ল সমাজমাধ্যমে। এ বার নিশানায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও সড়কমন্ত্রী নীতিন গডকরী। ‘ই২০ জনতা পার্টি’ (E20 Janta Party) নামে একটি নতুন সংগঠন ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (Ethanol Blended Petrol) নীতির স্বচ্ছতা ও গডকরীর ইস্তফার দাবিতে দ্রুত জনপ্রিয়তা কুড়োচ্ছে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-এ (X)। অন্যদিকে দিল্লি ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন এই একই ইস্যুতে আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে।
কী দাবি
সংগঠনটি নিজেদের কোনও রাজনৈতিক দল নয় বলে দাবি করে জানিয়েছে, তাদের একমাত্র লক্ষ্য স্বচ্ছতা, গ্রাহকদের অধিকার রক্ষা এবং ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নীতির প্রকৃত প্রভাব নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা নিশ্চিত করা। ১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রল কেনার বিকল্প ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছে তারা, যাতে গাড়ির মালিকেরা নিজেরাই বেছে নিতে পারেন তাঁদের গাড়িতে কোন জ্বালানি ভরবেন। ইনস্টাগ্রামে ইতিমধ্যেই দুই লক্ষাধিক এবং এক্সে ত্রিশ হাজারের বেশি অনুগামী জুটিয়ে ফেলেছে এই সংগঠন।
নেপথ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
আসলে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে ক্ষোভ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়া, ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক ক্ষয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছেন গাড়ি মালিকদের একাংশ, এমনকি শীর্ষ আদালতেও এই নীতির স্বচ্ছতা চেয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে গডকরী নিজে বরাবরই এই সমালোচনাকে ‘পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, এবং সাফ জানিয়েছেন যে খাঁটি পেট্রল কিনতে গেলে আরও দাম দিতে হবে। পরিবহনমন্ত্রীর ছেলে ইথানল উৎপাদন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলেও একটি মহলের জল্পনা রয়েছে, যদিও তার সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। বরং এটি পরিকল্পিত অপপ্রচার এমন দাবিতে গডকরী মুম্বই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Just watch what Nitin Gadkari Promised. <br><br>For decades, many politicians in India behaved as if they were elected to rule the people.<br><br>For the first time, Gen Z is reminding them of a simple truth:<br><br>They were elected to serve the people.<br><br>The era of rulers is fading.<br>The era of… <a href=”https://t.co/yovdl0RiNB”>pic.twitter.com/yovdl0RiNB</a></p>— E20 JANTA PARTY (@E20Party) <a href=”https://x.com/E20Party/status/2081273632572260521?ref_src=twsrc%5Etfw”>July 26, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
নিট আন্দোলনের ছায়া স্পষ্ট
লক্ষণীয় বিষয়, ককরোচ পার্টির মতোই চমক লাগানো স্লোগান, মিমনির্ভর প্রচারের পথেই হাঁটছে ই ২০ জনতা পার্টি। স্বভাবতই এই আন্দোলনও যে জেন-জিকে ভিত্তি করেই জোরদার করার চেষ্টা হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে একাধিক পোস্ট, যেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিদায়ের পরে গডকরীর পালা বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যটন পরিবহন সংগঠনগুলিও আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিমুখে মিছিলের ডাক দিয়েছে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে, যা এই আন্দোলনকে আরও বাস্তব চেহারা দিতে পারে বলে ধারণা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলার লক্ষ লক্ষ গাড়ি ও দু’চাকার মালিকের কাছেও ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুরনো মডেলের গাড়ি ও বাইকে মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে গাড়িচালক ও যন্ত্রাংশ মেরামতকারীদের মুখে। রাজ্যের ট্যাক্সি ও পরিবহন সংগঠনগুলিও যদি দিল্লির পথ অনুসরণ করে সরব হয়, তা হলে জ্বালানি নীতি নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। বিশেষত পেট্রল-ডিজেলের দাম ও গুণমান বরাবরই বাংলার সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ফলে এই আন্দোলনের ঢেউ রাজ্যেও পৌঁছনোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকদের একাংশ।