আমেরিকায় (US) পড়তে যাওয়া বিদেশি পড়ুয়াদের জন্য বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন (Trump administration) এবার ভাবনাচিন্তা করছে পড়াশোনা শেষে আমেরিকায় কাজ করার অনুমতির জন্য বিদেশি পড়ুয়াদের কাছ থেকে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (১ লক্ষ ইউএস ডলার) ফি নেওয়ার। ভারতীয়, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া বহু পড়ুয়ার কাছে এই খবর রীতিমতো উদ্বেগের।
কোন প্রকল্পে কোপ
আমেরিকায় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ করার পর পড়ুয়ারা ওপিটি (Optional Practical Training) নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পান। সাধারণ বিষয়ের পড়ুয়ারা এক বছর এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত অর্থাৎ স্টেম (STEM) বিষয়ে পড়া পড়ুয়ারা তিন বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পান। ২০২৪ সালের হিসেব অনুযায়ী প্রায় চার লক্ষ উনিশ হাজার বিদেশি স্নাতক এই প্রকল্পের অধীনে আমেরিকায় কর্মরত ছিলেন। এবার বেছে বেছে ঠিক এই প্রকল্পের উপরেই বসতে চলেছে চড়া ফি।
ছাত্র ভিসায় নজর
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলার ফি চাপানোর চেষ্টা করেছিল। বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির আপত্তির মুখে সেই প্রস্তাব সীমিত করে শুধুমাত্র বিদেশ থেকে সরাসরি আসা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য করা হয়। আদালতেও সেই ফি নিয়ে ধাক্কা খেয়েছে প্রশাসন। এক ফেডারেল বিচারক রায় দিয়েছেন, এই ফি আসলে একধরনের কর, যা সংসদের অনুমোদন ছাড়া আদায় করা যায় না। এবার সেই লক্ষ্য বদলে সরাসরি আমেরিকায় পড়াশোনা করা বিদেশি পড়ুয়াদের দিকে ঘুরিয়েছে প্রশাসন।
অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়
হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কোনও নীতি পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রস্তাবটি যে বিবেচনাধীন রয়েছে, তা তিনি অস্বীকার করেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, এই ফি ইতিমধ্যে ঘোষিত একটি নতুন নিয়মের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যেখানে ওপিটি ব্যবহারের জন্য পড়ুয়াদের ভিসা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। এছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (Department of Homeland Security) গোটা প্রকল্পটি নতুন করে সাজানোর কাজেও হাত দিয়েছে, যা চলতি বছরই প্রকাশ পেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চিন্তায়
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে শুধু পড়ুয়ারাই নন, বিপাকে পড়বে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও। বিদেশি পড়ুয়াদের টিউশন ফি বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের বড় উৎস। একইসঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের বহু সংস্থা আমেরিকার ক্যাম্পাস থেকেই মেধাবী বিদেশি ছাত্রছাত্রী নিয়োগ করে, প্রথমে ওপিটির মাধ্যমে এবং পরে এইচ-১বি ভিসায় স্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে। এই নতুন ফি সেই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়া
প্রতি বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহু মেধাবী পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা পাড়ি দেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার পর ওপিটির মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়াটাই তাঁদের কাছে স্বপ্নের প্রথম ধাপ। ১ লক্ষ ডলারের এই ফি কার্যকর হলে বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের কাছে সেই স্বপ্ন আর্থিক কারণেই অধরা থেকে যেতে পারে। ফলে আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকা রাজ্যের পড়ুয়া এবং তাঁদের অভিভাবকদের জন্য এই খবর বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই।