প্রস্তুতি ছাড়াই তিন ভাষা নীতির চাপ, শিক্ষাব্যবস্থায় বাড়ছে উদ্বেগ

প্রতীকী চিত্র

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় ফের বড় নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নতুন তিন ভাষা নীতি চালু হওয়ায় একদিকে যেমন বহু ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এই নীতির মূল লক্ষ্য, বহু ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক ভাষা শেখা বুদ্ধির বিকাশ ঘটায় এবং সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, প্রস্তুতি ছাড়া এই নীতি চালু হওয়ায় স্কুলগুলিতে চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

আগে তৃতীয় ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মরক্ষার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি ভাষাতেই পাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে তৃতীয় ভাষা সরাসরি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই বড় পরিবর্তন হঠাৎ করেই চালু হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

স্কুলগুলির অভিযোগ, পাঠ্যবই, পাঠক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই। অথচ অল্প সময়ের মধ্যে এই নীতি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ঠিক কীভাবে পড়াবেন, সেই বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না। শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, প্রস্তুতি ছাড়া কোনও নীতি কার্যকর করা মানে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা। তাঁদের মতে, ভাষা শেখানো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা মাঝপথে জোড়া লাগিয়ে চালানো যায় না।


আরও বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পড়াশোনার চাপ নিয়ে। বর্তমানে একজন ছাত্রকে মূল বিষয়, প্রকল্পের কাজ, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন— সব সামলাতে হয়। এর সঙ্গে নতুন একটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হওয়ায় চাপ আরও বাড়ছে। অনেক অভিভাবকই প্রশ্ন তুলছেন, নতুন বিষয় যোগ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও কিছু বাদ দেওয়া হচ্ছে না কেন।

সবচেয়ে গুরুতর আশঙ্কা উঠে আসছে বৈষম্য বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে। উন্নত শহুরে স্কুলে এই নীতি কার্যকর করা সহজ হলেও গ্রামাঞ্চল বা সীমিত পরিকাঠামোর স্কুলে তা কঠিন হয়ে উঠছে। সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক, সময় বা সহায়ক উপকরণ না থাকায় ছাত্রদের জন্য এটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী স্কুল এই নীতিকে সুযোগে পরিণত করতে পারবে, কিন্তু দুর্বল স্কুলে তা শুধুই নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতায় পরিণত হবে। ফলে শিক্ষার মানে আরও ফারাক হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হচ্ছে, নীতির ভাবনা যতই ইতিবাচক হোক না কেন, সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া তা কার্যকর করতে গেলে তাতে বিপরীত ফল হতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে আগে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পাঠ্যবই ও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।