আইআইটি কানপুরের ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মসংস্থান দপ্তর বা স্টুডেন্টস প্লেসমেন্ট অফিস (এসপিও) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ব্যাচের জন্য ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করল। আগের বছরের মতোই এ বারও সহজ পদ্ধতিতে অন-ক্যাম্পাস, ভার্চুয়াল ও হাইব্রিড মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, যাতে সংস্থা ও পড়ুয়া— দু’পক্ষই সর্বাধিক সুযোগ পান।
এই প্রথম ধাপে দেশের ও বিদেশের মিলিয়ে ২৫০টিরও বেশি সংস্থা অংশ নেয়। সব মিলিয়ে মোট ১২০২টি চাকরির অফার আসে। এর মধ্যে ১০৭৯টি অফার পড়ুয়ারা গ্রহণ করেছেন। এই সংখ্যার মধ্যেই রয়েছে প্রি-প্লেসমেন্ট অফার বা পিপিও।
এ বারের প্লেসমেন্টে বিশেষ আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক নিয়োগ। ইউরোপ, জাপান, কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থায় কাজের সুযোগ পেয়েছেন ১৫ জন পড়ুয়া। আইআইটি কানপুর কর্তৃপক্ষের আশা, দ্বিতীয় ধাপে আন্তর্জাতিক সুযোগ আরও বাড়বে। আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি দ্বিতীয় ধাপের প্লেসমেন্ট শুরু হওয়ার কথা।
প্রথম ধাপে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলির মধ্যে ছিল দেশের ও বিশ্বের একাধিক প্রথম সারির নাম। বেসরকারি ক্ষেত্রের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপিসিএল, বেল, মিধানি ও ইআইএল-এর মতো সংস্থাগুলি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ করে।
প্রথম ধাপের সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আইআইটি কানপুরের অধিকর্তা মণীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘প্রথম ধাপের প্লেসমেন্ট সফলভাবে শেষ হওয়া আমাদের পড়ুয়াদের একাডেমিক মান, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং শিল্পজগতের জন্য প্রস্তুতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে দেশ ও বিদেশের প্রথম সারির সংস্থার সঙ্গে আইআইটি কানপুরের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরে। স্টুডেন্টস প্লেসমেন্ট অফিস যে দক্ষতার সঙ্গে এই নমনীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে, তার জন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’
এসপিও-র চেয়ারপার্সন অশ্বিনী কুমার ঠাকুর জানান, ‘এই কর্মসংস্থান মেলায় অংশ নেওয়া সব নিয়োগকারী সংস্থাকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আইআইটি কানপুরের পড়ুয়াদের উপর তাঁদের আস্থা আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এই অংশীদারিত্বই পড়ুয়াদের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।’
এসপিও-র ভাইস চেয়ারপার্সন মঞ্জেশ কুমার সিংহ বলেন, ‘এই সাফল্যের পিছনে স্টুডেন্টস প্লেসমেন্ট অফিসের গোটা দলের পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের নিরন্তর সহযোগিতা রয়েছে। আমাদের নিয়োগকারী সহযোগীরাই পড়ুয়াদের স্বপ্নপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।’
প্রথম ধাপের এই সাফল্যের পরে আইআইটি কানপুর আশাবাদী, আগামী মাসে শুরু হতে চলা দ্বিতীয় ধাপে বাকি পড়ুয়ারাও আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।