প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেমন আমাদের জীবন সহজ হয়েছে, তেমনই বেড়েছে বিপদের আশঙ্কাও। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি বা অনলাইন প্রতারণার ঘটনা সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সাইবার সুরক্ষা এখন শুধু প্রয়োজন নয়, এক গুরুত্বপূর্ণ পেশার ক্ষেত্র হিসেবেও উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এই ক্ষেত্রের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই বহু তরুণ-তরুণী এখন সাইবার সুরক্ষাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এই পেশায় আসতে গেলে প্রয়োজন নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতা।
সাধারণত কম্পিউটার বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বা ডেটা বিশ্লেষণ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে এই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সুরক্ষা, ক্লাউড সুরক্ষা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং সিস্টেম পরিচালনা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শুধু ডিগ্রি থাকলেই হয় না, প্রয়োজন স্বীকৃত শংসাপত্রও। এই শংসাপত্রগুলি প্রমাণ করে যে প্রার্থী এই ক্ষেত্রের কাজে দক্ষ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র থাকলে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা মেলে।
চাকরির ক্ষেত্রও এখন অনেক বিস্তৃত। সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক, রেল এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে। প্রাথমিক স্তরে বিশ্লেষক, সিস্টেম সুরক্ষা আধিকারিক বা সহকারী পদে কাজের সুযোগ মেলে। অভিজ্ঞতা বাড়লে ধীরে ধীরে উন্নত পদে উন্নীত হওয়া যায়।
বেতনের দিক থেকেও এই পেশা যথেষ্ট আকর্ষণীয়। শুরুতে বছরে চার থেকে আট লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। অভিজ্ঞতা বাড়লে তা ১৭ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এই ক্ষেত্রকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়াও ভবিষ্যতের জন্য একটি সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে।