কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে শিক্ষা-শিল্প সমন্বয়ের পথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরি করতে বড় উদ্যোগ নিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে নতুন শিক্ষা-শিল্প অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় আশুতোষ কলেজে কম খরচে বিজনেস ম্যানেজমেন্টের দুটি নতুন পাঠক্রম চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ফ্ল্যাগশিপ এমবিএ ডুয়াল স্পেশালাইজেশন পাঠক্রম। মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির ঘোষণা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাস্তবমুখী শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত করে তোলা। প্রতি বছর প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।


কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা এমন একটি সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করতে চাইছি, যেখানে শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব শিল্পজগতের যোগ আরও মজবুত হবে।’

বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অভিষেক অডি বলেন, ‘বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশের চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুত করতে শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ইন্টার্নশিপ বা চাকরির সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস এবং উদ্ভাবনী শক্তি বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শর্মিষ্ঠা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ পাঠক্রমকে আরও আধুনিক এবং গতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত বলেন, ‘আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করতে চাইছি, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি অভিজ্ঞ শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা এবং মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।’

উভয় পক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিল্পক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা অতিথি শিক্ষক, বক্তা এবং পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি হবে। শিল্পমহলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন দরজাও খুলবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।