প্রতিশ্রুতি ছিল অনেক, বাস্তবতা কতটা?

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রাজ্যে চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় মতুয়াদের একটা বড় অংশের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। তা নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে তৈরি হয় আশঙ্কা। নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন মতুয়ারা। এই পরিস্থিতিতে তিনদিনের জন্য বঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওপার বাংলা থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বস্ত করেন। কারও নাগরিকত্ব যাবে না বলে আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। কেউ ওদের ক্ষতি করতে পারবে না। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’

বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বারবার সরব হয়েছে শাসক দল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এসআইআর রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছে তৃণমূল। আতঙ্কে ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরাও। যদিও বিজেপির তরফে তাঁদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবাদসভার ডাক দিয়েছিলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আরেক সংঘাধিপতি তথা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তা নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

এসবের মাঝেই কলকাতা থেকে মতুয়াদের নাগরিকত্ব হারানোর ভয় না পাওয়ার কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই তিনি বললেন, ‘মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যারা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছে, কেউ ওদের ক্ষতি করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না। তাদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’ সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে নাগরিকদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। হয়রানির অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব। আর সেই কারণেই এসআইআর হচ্ছে। কোনও মানুষ তো দূরের কথা, একটি পাখিও গলতে পারবে না। এমন কড়াভাবে কাজ করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর কাজ তৃণমূল সরকারে করেনি, পারেওনি। এটা একমাত্র পারে ভারতীয় জনতা পার্টি।’

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এই তালিকায় একজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গার নাম নেই বলে বারবার দাবি করেছে তৃণমূল। শাসক নেতাদের কণ্ঠে বারবার এই অভিযোগও শোনা গিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ আটকানোর দায়িত্ব বিএসএফের। আর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। মঙ্গলবার এরও জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহ বলেছেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতার দিতে জমি প্রয়োজন। সেই জমি দিতে চায় না রাজ্য সরকার। বিএসএফকে যথাযথ পরিকাঠামো দিলে তবে তো তারা ঠিকমতো সীমান্ত রক্ষা করতে পারবে। জমি চেয়ে কেন্দ্র বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে চিঠি দিয়েছে, জমি পাওয়া যায়নি এখনও।’

অনুপ্রবেশ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশে সমস্যা বলে এদিন তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই সমস্যার নির্মূল না হলে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আর বিজেপি তা রুখে দিতে সক্ষম। এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘অনুপ্রবেশের কথা বলছেন আপনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনুপ্রবেশ হলে সেটা আপনার ব্যর্থতা। এই তো কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিরা ধরা পড়েছে। কোথা থেকে ধরা পড়েছে? কথা বলার আগে ভেবে বলুন।’

নারী নির্যাতন নিয়ে শাহের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর কথায়, ‘বাংলার কোটি কোটি মেয়ে দুর্গাপুজো, ক্রিসমাসে ঘুরেছেন। কোনও অসুবিধা হয়নি। নববর্ষেও ঘুরবেন।’ পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মহিলাদের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, ‘কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। অলিম্পিক্স পদকজয়ী মহিলা বক্সারদের হেনস্থা করছেন আপনার মন্ত্রী। কোনও ব্যবস্থা নেননি।’

দুর্নীতির বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে বলেছেন, আমাদের লোকেরা দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর তোমাদের খুন-ধর্ষণ করা লোককে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীও উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনের প্রসঙ্গ তুলেছেন বিজেপিকে নিশানা করেছেন তা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।