শ্যামল সান্যাল
সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে একটি অপ্রকাশিত দলিল বা তথ্য নিয়ে এই আলোচনা। রাজনৈতিক ঐতিহাসিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নথিটি। কলকাতা হাইকোর্টের একটি মামলা এর বিষয়। ‘মহাজাতি সদন’ ভবনটি নির্মাণ এবং সুভাষচন্দ্রের একটি ভাষণ ছিল কেন্দ্রবিন্দু। কলকাতা পুলিশের একটি আবেদন তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ১৯৪১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই বছরেই ১৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর কলকাতার অতিরিক্ত চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালেন, সুভাষচন্দ্রকে তাঁরা খুঁজে পাননি। ‘আই হ্যাভ দি অনার দ্য রিপোর্ট দ্যাট দি সেভ পারসন কুড নট বি ফাউন্ড… আই হ্যাভ পার্সন হ্যাজ সার্টেন মুভেবেল প্রপার্টিজ অ্যাট ৩৮/১, এলগিন রোড, পিএস- ভবানীপুর, ক্যালকাটা অ্যান্ড মে হ্যাভ ব্যালান্স টু হিজ ক্রেডিট উইদ দি ফলোয়িং ব্যাঙ্কস ইন ক্যালকাটা…’
তিনি সুভাষচন্দ্রের এলগিন রোডের বাড়ি ও ৪টি ব্যাঙ্কে তাঁর টাকা অ্যাটাচ করার অনুমতি চাইছেন, দলিলে দেখা যাচ্ছে।
হাইকোর্টের নথিতে লিখিত তথ্য ‘ইন দি কোর্ট অফ দি অ্যাডিশনাল চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কেস ল্য, সি / ১৮৭৫ অফ ১৯৪০ ইন দি ম্যাটার অফ এমপারার ভিএস সুভাষচন্দ্র বোস আন্ডার রুল ৩৮(ক), ৩৮(১) (এ) অ্যান্ড সি অফ দি ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়া রুলস্ (হিয়ারিং ফিক্সড ফর দি ২৯ মার্চ, ১৯৪২)।’
৮৪ বছর আগের এই ঐতিহাসিক মামলাতে কলকাতা পুলিশ আদালতকে জানিয়েছিল— (১) সুভাষচন্দ্রকে তারা ধরতে পারেনি— নিখোঁজ বলে। (২) তাঁর সম্পত্তি ব্যাঙ্কের টাকা দখল করে নেবার অনুমতি চাইছে।
সুভাষচন্দ্র এদিকে ছদ্মবেশে এলগিন রোডের বাড়ি থেকে কলকাতা থেকে শেষবারের মতো চলে গিয়েছিলেন ১৯৪১-এর ১৭ জানুয়ারি। কৃষ্ণা বসুর গ্রন্থের যাকে বলা হয়েছে ‘মহানিষ্ক্রমণ’। তাঁর মুখের কথায় ‘গ্রেট এসকেপ’।
সুভাষচন্দ্র বসুর পরবর্তী জীবন এবং ‘বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু’কে ঘিরে বিতর্ক আজও বহাল। বিশেষভাবে লক্ষ্য করার হ’ল, তাঁর সম্পর্কে নথিপত্র প্রথম কংগ্রেস সরকার থেকে আজকের বিজেপি সরকার গোপনীয়, স্পর্শকাতর হিসেবে ছাপ দিয়ে প্রকাশ করেনি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সুভাষচন্দ্র বিষয়ে গবেষকরা বারবার অনুরোধ করেও দিল্লিকে টলাতে পারেনি। অনেক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির যুক্তি দেখিয়ে তাঁদের অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেন, একুশ শতকে এই আমূল পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বিশাল সক্রিয় কাজকর্মের যুগে আদৌ কিছু কি গোপন রাখা যায়, না তা সম্ভব? রবীন্দ্রনাথের গান, ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে…’। তাঁরা গেয়ে ওঠেন। (সুভাষচন্দ্রের জন্ম: ১৩ জানুয়ারি ১৮৯৭, কটক)
সূত্র: হাইকোর্টের মামলার নথিটি এক গবেষকের সংগ্রহে আছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আমাকে তিনি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন। তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।