মহালয়ার ভোরে ঘুম ভাঙে এক পরিচিত সুরে। আকাশ তখনও অন্ধকারের চাদরে ঢাকা। দূরে কোথাও শিউলি ঝরে পড়ে। রেডিওতে বেজে ওঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রপাঠ। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গম্ভীর কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুনতে শুনতে বাঙালির মনে জেগে ওঠে দেবীপক্ষের আগমনী অনুভব। মনে হয়, মা আসছেন। অথচ এই আনন্দের ভোরে মিশে থাকে এক গভীর স্মৃতিমেদুরতা। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় তাঁদের কথা, যাঁরা একদিন এই পৃথিবীতে ছিলেন, আমাদের জীবনের ভিত গড়ে দিয়ে চলে গেছেন। মহালয়া তাই কেবল দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা নয়— পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনেরও এক বিশেষ উপলক্ষ।
মানুষের জীবন কি একান্তই ব্যক্তিগত? একটু গভীরে তাকালেই বোঝা যায়, আজ যে মানুষ নিজের পরিচয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তাঁর অস্তিত্বের পিছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের শ্রম, স্বপ্ন, ত্যাগ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মুখের ভাষা থেকে জীবনবোধ, সংস্কার থেকে সাংস্কৃতিক পরিচয়— সবকিছুর মধ্যেই মিশে আছে পূর্ববর্তী প্রজন্মের অবদান। শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে অসংখ্য প্রজন্মের জৈব উত্তরাধিকার। চিন্তার গভীরেও রয়ে গিয়েছে অতীতের পরিচিত-অপরিচিত মানুষের অভিজ্ঞতার ছায়া। আমরা বর্তমানের বাসিন্দা হলেও শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে সুদূর অতীতে। সেই শিকড়ের সন্ধানে ফিরে তাকানোই পিতৃস্মরণের
মূল কথা।
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষে বহু পরিবারে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও শ্রাদ্ধের আয়োজন হয়। নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে কেউ অঞ্জলি ভরে জল নিবেদন করেন। কেউ বাড়িতে প্রয়াত বাবা-মায়ের ছবির সামনে বসে ফিরে দেখেন ফেলে আসা দিনের স্মৃতি। ভেসে ওঠে স্নেহমাখা মুখ, শাসনের মুহূর্ত, জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া অমূল্য শিক্ষা। কারও কাছে পিতৃপক্ষ ধর্মবিশ্বাসের পবিত্র অনুশাসন, কারও কাছে পারিবারিক ঐতিহ্য। আবার কারও কাছে এটি এমন এক আত্মিক অবকাশ, যখন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের সঙ্গে মনের গভীরে নতুন করে কথোপকথন শুরু হয়।
প্রাচীন ভারতীয় ধর্মদর্শনে ঋষিঋণ, দেবঋণ ও পিতৃঋণের ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঋষিদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, দেবশক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণের মধ্য দিয়ে এই ঋণ স্বীকারের ভাবনা গড়ে উঠেছে। পিতৃঋণ কেবল বংশবৃদ্ধির প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জীবন, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়িত্ব। যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যে সমাজে বেড়ে উঠি, যে অভিজ্ঞতা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়, তার পিছনে রয়েছে বহু প্রজন্মের অবদান।
শ্রাদ্ধ ও তর্পণ এই কৃতজ্ঞতাবোধের ধর্মীয় প্রকাশ। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে জল, তিল, অন্ন ও পিণ্ড নিবেদন করে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে প্রার্থনা করা হয়। পিতা, পিতামহ ও প্রপিতামহের পাশাপাশি মাতৃকুলের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার রীতিও প্রচলিত। ফলে পিতৃস্মরণ কেবল পিতৃকুলের ইতিহাসে আবদ্ধ থাকে না; মাতৃকুলের উত্তরাধিকারও সমান মর্যাদা পায়। মনুস্মৃতি ও যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতিতে পিতৃপুরুষদের সঙ্গে বসু, রুদ্র ও আদিত্যের প্রতীকী সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। এই ধারণার মধ্য দিয়ে পারিবারিক স্মৃতিকে বৃহত্তর আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়।
শ্রাদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে বহু যুগ ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যুর পরে আত্মা অন্য লোক লাভ করলে কিংবা পুনর্জন্ম গ্রহণ করলে নিবেদিত অন্ন বা জল তাঁর কাছে পৌঁছয় কীভাবে? নন্দ পণ্ডিতের ‘শ্রাদ্ধকল্পলতা’ গ্রন্থে এই ধরনের আপত্তি ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার আলোচনা রয়েছে।
মার্কণ্ডেয় পুরাণে উপমা দেওয়া হয়েছে, অসংখ্য গাভীর মধ্যে বাছুর যেমন নিজের মাকে চিনে নেয়, তেমনই শ্রাদ্ধে নিবেদিত অন্ন নির্দিষ্ট পিতৃপুরুষের কাছে পৌঁছয়— এমন বিশ্বাস প্রচলিত। এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিসরের অন্তর্গত। তবে এর মধ্যে মানুষের গভীর আকাঙ্ক্ষাটি স্পষ্ট— মৃত্যুর পরেও প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতি অটুট রাখা।
হরিদ্বারের কুশাবর্ত ঘাট ও নারায়ণী শিলা মন্দির পিতৃকর্মের জন্য বিশেষ পরিচিত। পৌরাণিক জনশ্রুতি অনুসারে, রাম পিতা দশরথের উদ্দেশে কুশাবর্ত ঘাটে তর্পণ ও পিণ্ডদান করেছিলেন। নারায়ণী শিলাকে ভগবান বিষ্ণুর স্বরূপ বলে মানা হয়। গয়া, পুষ্কর ও প্রয়াগও পিতৃকর্মের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে পরিচিত। এই স্থানগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ভারতীয় তীর্থসংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসের পরিচয় বহন করে।
পিতৃপক্ষের তাৎপর্য অবশ্য ধর্মীয় আচারেই শেষ হয় না। পরিবারের প্রবীণ মানুষটি চলে যাওয়ার পরে তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার, পুরোনো চিঠি কিংবা বিবর্ণ ছবির দিকে তাকালে যে শূন্যতা অনুভূত হয়, তার মধ্যেও পিতৃস্মরণের গভীর অর্থ লুকিয়ে থাকে। সংসারের জন্য করা ত্যাগ, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই কিংবা জীবনের পথে শেখানো মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে। তাই পারিবারিক ইতিহাস লিখে রাখা, পুরোনো ছবি সংরক্ষণ করা এবং ছোটদের কাছে পূর্বপুরুষদের জীবনের গল্প তুলে ধরা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
এখানে একটি প্রশ্নও জরুরি। জীবিত অবস্থায়
বাবা-মা ও প্রবীণদের যথাযথ সম্মান দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? মৃত্যুর পরে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের পাশাপাশি জীবিত মানুষের প্রতি দায়িত্বও সমান মর্যাদা দাবি করে। অসুস্থ প্রবীণের পাশে দাঁড়ানো, তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, একাকিত্বে সঙ্গ দেওয়া এবং অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানো— এসবের মধ্যেই কৃতজ্ঞতার বাস্তব প্রকাশ ঘটে। পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা মানে অতীতের প্রতিটি রীতিকে প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেওয়া নয়; অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করাও তার অংশ।
মানুষের জীবন কি একান্তই ব্যক্তিগত? একটু গভীরে তাকালেই বোঝা যায়, আজ যে মানুষ নিজের পরিচয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তাঁর অস্তিত্বের পিছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের শ্রম, স্বপ্ন, ত্যাগ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মুখের ভাষা থেকে জীবনবোধ, সংস্কার থেকে সাংস্কৃতিক পরিচয়— সবকিছুর মধ্যেই মিশে আছে পূর্ববর্তী প্রজন্মের অবদান। শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে অসংখ্য প্রজন্মের জৈব উত্তরাধিকার। চিন্তার গভীরেও রয়ে গিয়েছে অতীতের পরিচিত-অপরিচিত মানুষের অভিজ্ঞতার ছায়া। আমরা বর্তমানের বাসিন্দা হলেও শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে সুদূর অতীতে। সেই শিকড়ের সন্ধানে ফিরে তাকানোই পিতৃস্মরণের
মূল কথা।
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষে বহু পরিবারে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও শ্রাদ্ধের আয়োজন হয়। নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে কেউ অঞ্জলি ভরে জল নিবেদন করেন। কেউ বাড়িতে প্রয়াত বাবা-মায়ের ছবির সামনে বসে ফিরে দেখেন ফেলে আসা দিনের স্মৃতি। ভেসে ওঠে স্নেহমাখা মুখ, শাসনের মুহূর্ত, জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া অমূল্য শিক্ষা। কারও কাছে পিতৃপক্ষ ধর্মবিশ্বাসের পবিত্র অনুশাসন, কারও কাছে পারিবারিক ঐতিহ্য। আবার কারও কাছে এটি এমন এক আত্মিক অবকাশ, যখন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের সঙ্গে মনের গভীরে নতুন করে কথোপকথন শুরু হয়।
প্রাচীন ভারতীয় ধর্মদর্শনে ঋষিঋণ, দেবঋণ ও পিতৃঋণের ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঋষিদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, দেবশক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণের মধ্য দিয়ে এই ঋণ স্বীকারের ভাবনা গড়ে উঠেছে। পিতৃঋণ কেবল বংশবৃদ্ধির প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জীবন, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়িত্ব। যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যে সমাজে বেড়ে উঠি, যে অভিজ্ঞতা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়, তার পিছনে রয়েছে বহু প্রজন্মের অবদান।
শ্রাদ্ধ ও তর্পণ এই কৃতজ্ঞতাবোধের ধর্মীয় প্রকাশ। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে জল, তিল, অন্ন ও পিণ্ড নিবেদন করে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে প্রার্থনা করা হয়। পিতা, পিতামহ ও প্রপিতামহের পাশাপাশি মাতৃকুলের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার রীতিও প্রচলিত। ফলে পিতৃস্মরণ কেবল পিতৃকুলের ইতিহাসে আবদ্ধ থাকে না; মাতৃকুলের উত্তরাধিকারও সমান মর্যাদা পায়। মনুস্মৃতি ও যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতিতে পিতৃপুরুষদের সঙ্গে বসু, রুদ্র ও আদিত্যের প্রতীকী সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। এই ধারণার মধ্য দিয়ে পারিবারিক স্মৃতিকে বৃহত্তর আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়।
শ্রাদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে বহু যুগ ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যুর পরে আত্মা অন্য লোক লাভ করলে কিংবা পুনর্জন্ম গ্রহণ করলে নিবেদিত অন্ন বা জল তাঁর কাছে পৌঁছয় কীভাবে? নন্দ পণ্ডিতের ‘শ্রাদ্ধকল্পলতা’ গ্রন্থে এই ধরনের আপত্তি ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার আলোচনা রয়েছে।
মার্কণ্ডেয় পুরাণে উপমা দেওয়া হয়েছে, অসংখ্য গাভীর মধ্যে বাছুর যেমন নিজের মাকে চিনে নেয়, তেমনই শ্রাদ্ধে নিবেদিত অন্ন নির্দিষ্ট পিতৃপুরুষের কাছে পৌঁছয়— এমন বিশ্বাস প্রচলিত। এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিসরের অন্তর্গত। তবে এর মধ্যে মানুষের গভীর আকাঙ্ক্ষাটি স্পষ্ট— মৃত্যুর পরেও প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতি অটুট রাখা।
হরিদ্বারের কুশাবর্ত ঘাট ও নারায়ণী শিলা মন্দির পিতৃকর্মের জন্য বিশেষ পরিচিত। পৌরাণিক জনশ্রুতি অনুসারে, রাম পিতা দশরথের উদ্দেশে কুশাবর্ত ঘাটে তর্পণ ও পিণ্ডদান করেছিলেন। নারায়ণী শিলাকে ভগবান বিষ্ণুর স্বরূপ বলে মানা হয়। গয়া, পুষ্কর ও প্রয়াগও পিতৃকর্মের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে পরিচিত। এই স্থানগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ভারতীয় তীর্থসংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসের পরিচয় বহন করে।
পিতৃপক্ষের তাৎপর্য অবশ্য ধর্মীয় আচারেই শেষ হয় না। পরিবারের প্রবীণ মানুষটি চলে যাওয়ার পরে তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার, পুরোনো চিঠি কিংবা বিবর্ণ ছবির দিকে তাকালে যে শূন্যতা অনুভূত হয়, তার মধ্যেও পিতৃস্মরণের গভীর অর্থ লুকিয়ে থাকে। সংসারের জন্য করা ত্যাগ, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই কিংবা জীবনের পথে শেখানো মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে। তাই পারিবারিক ইতিহাস লিখে রাখা, পুরোনো ছবি সংরক্ষণ করা এবং ছোটদের কাছে পূর্বপুরুষদের জীবনের গল্প তুলে ধরা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
এখানে একটি প্রশ্নও জরুরি। জীবিত অবস্থায়
বাবা-মা ও প্রবীণদের যথাযথ সম্মান দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? মৃত্যুর পরে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের পাশাপাশি জীবিত মানুষের প্রতি দায়িত্বও সমান মর্যাদা দাবি করে। অসুস্থ প্রবীণের পাশে দাঁড়ানো, তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, একাকিত্বে সঙ্গ দেওয়া এবং অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানো— এসবের মধ্যেই কৃতজ্ঞতার বাস্তব প্রকাশ ঘটে। পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা মানে অতীতের প্রতিটি রীতিকে প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেওয়া নয়; অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করাও তার অংশ।
মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের ধ্বনি যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বাঙালির মনে দেবী দুর্গার আগমনের আনন্দ জেগে ওঠে। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা যেন জীবনের এক গভীর সত্য মনে করিয়ে দেয়। মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁর স্নেহ, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বেঁচে থাকে। এক মুঠো জল নদীর স্রোতে মিশে বৃহত্তর প্রবাহের অংশ হয়ে যায়। মানুষের জীবনও তেমনই— পূর্বপুরুষদের শ্রম, ভালোবাসা ও মূল্যবোধ আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হয়। মহালয়া তাই একদিকে দেবীর আবাহন, অন্যদিকে স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার দিন। পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার সবচেয়ে গভীর অর্থ কেবল মন্ত্রোচ্চারণে সীমাবদ্ধ নয়। জীবিত মানুষের প্রতি যত্ন, পারিবারিক ইতিহাসের সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলার মধ্য দিয়েও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। শিকড়কে সম্মান জানিয়ে নতুন দিনের দিকে এগিয়ে চলাই হতে পারে পিতৃঋণ স্বীকারের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ।