ইভিএম,কমিশনের সাফাই

ভােটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেইলিং' (ভিভিপ্যাট) মেশিন (Photo: IANS)

সপ্তদশ লােকসভা নির্বাচন সমাপ্তির মুখে।সেই প্রথম দফা থেকে ষষ্ঠদফা ভােটে ইলেকট্রনিক ভােটিং মেশিন(ইভিএম)নিয়ে প্রার্থী এবং ভােটারদের অভিযােগের কোনও বিরাম নেই।এই মেশিনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরােধী নেতাদের সন্দেহ তাে দূর হয়ইনি,কিন্তু ভােটে দেখা গেল,ভােট চলাকালে ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ার বহু ঘটনা।ফলে ভােটদান প্রক্রিয়া স্থগিত থেকেছে,ভােটরারা এই দুর্বিষহ গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এবার বেশি।যদিও নির্বাচন কমিশন নানাভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েই এই মেশিনগুলি ভােট কেন্দ্রে এনেছিল।তাহলে এত ঘন ঘন মেশিন অকেজো হয়ে পড়ার ঘটনা কেন ঘটল তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ভােট চলাকালীন অথবা ভােট শুরু হওয়ার আগেই মক ট্রায়ালে  দেখা গেছে মেশিনে গলদ।তাই অনেক বুথে ভােট আরম্ভ হতেই দেরি হয়েছে যে কারণে ভােটদাতাদের মনে উৎসাহে ভাটা পড়েছে।নির্বাচন কমিশন মেশিন খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছে  খারাপ মেশিনগুলি তৎপরতার সঙ্গে পাল্টানাের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’এটা যান্ত্রিক ব্যাপার’-কিছু করার ছিল না। কমিশন সেই সঙ্গে সাফাই গেয়েছে ভােটদান প্রক্রিয়া মেশিনে ত্রুটির জন্য সাময়িক বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে আবার যথারীত ভােট শুরু হয়েছে এবং ভােটারদের মনে উৎসাহের অভাব ছিল না।

তবে প্রশ্ন,নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে ইভিএম মেশিনগুলি দক্ষ কারিগর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল।তাছাড়া কীভাবে ভোট দিতে হবে,ভোট যে ঠিক জায়গায় পড়ল তাও ভিভিপ্যাট দেখানাে নিয়ে মানুষের মনে সচেতনতাবােধ জাগিয়ে তােলার জন্য গ্রামে গ্রামে নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রশিক্ষণ শিবির খােলা হয়েছিল।তা সত্ত্বেও একটার পর একটা মেশিন খারাপ হল এবং ভােটাররাও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ঠিক জায়গায় ভােট পড়ল কিনা তা দেখার জন্য অপেক্ষা করলেন না।ইভিএমের কার্যকারিতা নিয়ে দেশজুড়ে সমালােচনার ঝড় উঠায় নির্বাচন কমিশন এই সপ্তদশ লােকসভা নির্বাচনে ইভিএম যাতে ঠিক ঠিক মতাে কাজ করে তার জন্য উদ্যোগী হয়ে ইভিএমগুলি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেছিল।


এ তাে গেল মেশিন খারাপের কথা।কিন্তু ভােটের ফলাফলের পর বিরােধী প্রার্থীরা পরাজিত হলে দলীয় নেতৃত্ব যে ওই মেশিনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না তা কিন্তু বলা যায় না।ইভিএমে কারচুপি হয়,ভােটের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে,এই কারণেই কিন্তু বিরােধীরা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই দাবি তুলেছিলেন,আবার ব্যালটে ভােট ফিরিয়ে আনা হোক এই দাবির সপক্ষে তারা ভােটে ইভিএমের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন।যেমন উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএমে কারচুপির অনেক ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং বহুজন সমাজপার্টির নেত্রী মায়াবতী।
তারপর ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ২৫ বছর শাসনের পর সিপিএমের শােচনীয় পরাজয় ঘটল এবং বিজেপি যে দলের তেমন কোনও অস্তিত্বই ছিল , সেই দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করল।এই ভােটেও প্রচুর ইভিএম মেশিন অকেজো হয়ে পড়েছিল এবং ভােটদান দারুণভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল।পরে ভােট শেষ হল ঠিকই,কিন্তু ইভিএম ভােটের ফলাফল যে স্বচ্ছ নয়, কারচুপি হয়েছে,তা নিয়ে সিপিএম নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযােগ জানিয়েছিলেন।মধ্যপ্রদেশ , রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ের ভােটেও ইভিএমকে নিয়ে বিস্তর অভিযােগ জমা পড়েছিল নির্বাচন কমিশনে।
এরপরই বিরােধীরা মরিয়া হয়ে ওঠেন ইভিএমের বদলে আবার ব্যালটে ভােট করার দাবি নিয়ে।বিরােধীরা যখন তৃণমুলের ডাকে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে সভায় যােগ দিতে এসেছিলেন,তখন ইভিএমের বদলে ব্যালটে ভােট করার দাবি তােলা হয়।উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠিত হয়েছিল।তারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে ব্যালটে ভােট ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
কিন্তু তাঁদের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে কমিশন জানিয়ে দেয় ব্যালটে ভােট ফিরিয়ে আনার কোনও প্রশ্নই নেই।ব্যালটকে চিরদিনের জন্যই বিদায় দেওয়া হয়েছে।সুতরাং আসন্ন লােকসভা নির্বাচনে ইভিএমেই ভােট নেওয়া হবে।