নতুন করে জীবন

বি এস ইয়েদুরাপ্পা (File Photo: IANS)

নির্বাচন কমিশন কর্ণাটক বিধানসভার ১৫টি আসনের উপনির্বাচনের দিন পিছিয়ে দেওয়ায় রাজ্যের বি এস ইয়েদুরাপ্পার সংখ্যালঘু সরকার নতুন করে জীবন পেল। প্রথমে এই নির্বাচন ২১ অক্টোবর হবে বলে ঘােষণা করা হয়েছিল, পরে তা পাল্টে ৫ ডিসেম্বর হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। ৯ ডিসেম্বর হবে ভােটগণনা। এই উপনির্বাচনগুলির ফলাফলই স্থির করে দেবে বিধানসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কিনা। যতদিন না নির্বাচনের ফলাফল ঘােষিত হচ্ছে ততদিন ইয়েদুরাপ্পা সরকার সহজভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবে।

গত জুলাই মাসে শাসক কোয়ালিশনভুক্ত ১৭ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সদস্যপদ বাতিল করে দেওয়ায় এইচ ডি কুমারস্বামীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস-জনতা দল (সেকুলার) সরকারের পতন ঘটে। এর ফলে ২২৫ সদস্যের বিধানসভায় ১০৫ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করে। একটা আধা-ক্যাবিনেট গঠন করতেই ইয়েদুরাপ্পার দেড় মাসের বেশি সময় লেগে যায়। যে ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হচ্ছে তার অন্তত ৮টিতে যদি বিজেপি জেতে তাহলে ১০ ডিসেম্বরের পর হয়ত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। ১৭টি শূন্য আসনের মধ্যে রাজা রাজেশ্বরী নগর ও মাসকি এই দুটি আসনের ফলাফলকে কর্ণাটক হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে তাই চ্যালেঞ্জ পিটিশনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই দুটি আসনে নির্বাচন হচ্ছে না।

কর্ণাটক রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বরখাস্ত হওয়া ১৫ জন কংগ্রেস ও জেডি (এস) বিধায়কের ভােটে দাঁড়ানাে নিষিদ্ধ করেছেন। নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ১৫টি আসনের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে স্পিকারের আদেশ বলবৎ রয়েছে, তাই সদস্যপদ হারানাে বিধায়করা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।


সংবিধানের দশম তফসিল, যা দলত্যাগ-বিরােধী আইন হিসাবে পরিচিত, তাতে দলীয় হুইপ অমান্যকারী বিধায়কদের সদস্যপদ বাতিলের মেয়াদ একজন প্রাক্তন স্পিকারের স্থির করার ক্ষমতা আছে কিনা সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। এই বরখাস্ত বিধায়করা এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে বলেছেন, পদত্যাগের ঠিক আগে প্রাক্তন স্পিকারের নির্দেশ বেআইনি, একতরফা ও দশম তফসিলের ক্ষমতার অসৎ উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যবহার।

বিধায়করা যে পদত্যাগপত্র পেশ করেছিলেন তা স্বেচ্ছায় লেখা হয়নি বলে যুক্তি দেখিয়ে স্পিকার তা খারিজ করে দেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে বিধানসভার স্পিকার সদস্যপদ হারানাে বিধায়কদের উপনির্বাচনে দাঁড়ানাে থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না। এই বিধায়করা যুক্তি দেখিয়েছেন যে দশম তফসিল অনুসারে তাদের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বন্ধ করা বিধানসভা (দলত্যাগের কারণে বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ) বিধি ১৯৮৬ এর ৬ ও ৭ ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

কর্ণাটক বিধানসভার ২০২ নম্বর বিধির সঙ্গে সংবিধানের ১৯০ অনুচ্ছেদ বিচার করলে দেখা যায় কোনও সদস্য নিজের হাতে লিখে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন এবং স্পিকারের শুধু দেখবার কথা সেটি খাঁটি কিনা বা তা স্বেচ্ছায় লেখা হয়েছে কিনা। সুপ্রিম কোর্ট এই বিধায়কদের পক্ষে রায় দেয় কিনা বা ইয়েদুরাপ্পা ১৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮টি জিতে ১০ ডিসেম্বরের পরও ক্ষমতায় থাকতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার।