মেধার মূল্যায়ন হল না

প্রতীকী ছবি (File Photo: iStock)

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার মূল্যায়ন সম্ভব হল না বলে তাদের পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা ঘােষণা করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, তা কি সুবিচার হল? করােনা মহামারীর কারণে এ বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল ঘােষণা করা হয়েছে।

কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন একেবারেই সম্ভব নয়। তবুও ঘােষিত এই পদ্ধতি ছাড়া, পর্ষদ এবং সংসদের কাছে বিকল্প কোনও রাস্তা খােলা ছিল না। কিন্তু এই পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রছত্রীরা আদৌ খুশি হতে পারছেন না।

অভিভাবকরা বলছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উত্তরণ, মেধাবী ছত্রছাত্রীদের মেধার মূল্যায়ন তাে হবেই না, পরীক্ষার উৎকর্ষতা লাভেও বঞ্চিত হবে তারা। তবে মাঝারি মানের ছত্রছাত্রীদের কিছু সুবিধা হতে পারে। পরীক্ষাই মেধা মূল্যায়নের শ্রেষ্ঠ উপায়। আবহমানকাল থেকে এই ব্যবস্থা চলে আসছে।


পরীক্ষার মাধ্যমেই একটি ছাত্রের মেধা শক্তির প্রকাশ পায়, বিকল্প কোনও ব্যবস্থায়, তা কখনও হতে পারে না। করােনা মহামারী শিক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি করল। আজ এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ পঠন-পাঠন শিকেয় পড়ুয়ারা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

প্রাইমারি ও তার নীচের ক্লাসের শিশুরা স্কুলে যাওয়া-আসা, শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা নেওয়া, স্কুলে ক্লাসে যােগ দেওয়া অবসর সময় খেলাধুলাে, হই-হুল্লোড় ভুলেই গেল। বাড়িতে বসে বসে তারা স্কুলের কথা মনেই করতে পারছে না।

করােনা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছে। শিক্ষার সম্প্রসারণ আটকে রয়েছে। দেশের পক্ষে এটা বিরাট ক্ষতি। এই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষক-সংগঠনগুলি নানা মতামত দিয়েছে। রাজ্য সরকারি বিদ্যালয়, শিক্ষক সমিতি বলছে মাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সাধারণ মেধার পরীক্ষার্থীরা লাভবান হবে কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার পঠনপাঠনে অসুবিধে হতে পারে। অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনগুলি কমবেশি একই মনােভাব পােষণ করে। তবে উপায়ও নেই– একটা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাে ছাত্রদের স্বার্থ, তাদের ভবিষ্যতের পড়াশুনা রক্ষা করতে হবে।

উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের যেসব ছত্রছাত্রী রাত জেগে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে পড়াশােনা করে, পরীক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল, তারা হতাশায় ভেঙে পড়েছে। যারা পরীক্ষায় ভালাে ফল করবে, মেধা তালিকায় থাকার আশা করছে, তাদের কাছে এই মূল্যায়ন পদ্ধতি চরম হতাশা ডেকে নিয়ে এল।

উচ্চমাধ্যমিক ছাত্রদের অভিভাবকদের প্রশ্ন, এই মূল্যায়নে মার্কশিট নিয়ে তারা ভালাে কলেজে ভর্তি হতে পারবে তাে? দ্বাদশের যে ছাত্রছাত্রীরা, রাত জেগে, অনেক যত্ন নিয়ে পড়াশােনা করল, তা কোনও কাজেই লাগল না।

তবে এই পদ্ধতি ছত্রছাত্রীরা অকৃতকার্য হয়তাে খুব কম হবে। তাতে লাভবান হবে নিম্নমেধার পড়ুয়ারা। তবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং শিক্ষা সংসদ এই মূল্যায়ন পদ্ধতি ঘােষণা করে জানিয়ে দিয়েছে, কোনও পরীক্ষার্থী যদি এই মূল্যায়নে সন্তুষ্ট না হয়, তা হলে করােনা সংক্রমণ কমে গেলে, সে বাের্ড কর্তৃক আয়ােজিত লিখিত পরীক্ষায় বসতে পারবে।

তবে সেক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার মূল্যায়নই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। দুই শিক্ষা সংগনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, শিক্ষক মহল এবং অভিভাবকরা। তবে সেই পরিস্থিতি কবে তৈরি হবে, তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন।

তবে পরীক্ষায় বসুর সুযােগ থাকছে, এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক সম্প্রদায় খুশি। তবে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং সংসদ শেষ পর্যন্ত যে মূল্যায়ন পদ্ধতি ঘােষণা করল, তাতে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সুবিচার না হলেও, একটি উপায় তাে নির্ধারণ হল, যা পরীক্ষায় বসার বিকল্প।

যদিও পরীক্ষায় বসার সুযােগও থাকছে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারও ছাত্রছাত্রীদের যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য একটা গ্রহণযােগ্য উপায় বার করার জন্য বিভিন্ন স্তরে আলােচনা করেছে। তার ফল এই মূল্যায়ন পদ্ধতি।