মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারতের সামনে এক বড় ‘মধ্যপ্রাচ্য-সংকট’ দেখা দিয়েছে। এই সংঘাত ভারতের তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ব্যয় অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেলের দাম বাড়লে ভারতের অর্থনীতিতে তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে ব্যবধান— যাকে ব্যালান্স অব পেমেন্টস বলা হয়— তা আরও চাপে পড়বে। পাশাপাশি, তেল ও খনিজের দাম বৃদ্ধির ফলে ‘আমদানি করা মূল্যস্ফীতি’ও বাড়বে। এই পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন, এই সমস্যার মোকাবিলার উপায় খুঁজতে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাস আগে ছিল ৬৯.৫০ ডলার। সরকারি আশঙ্কা, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের তেল আমদানি খরচ বেড়ে ১৭০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে আগে এই হিসাব ছিল প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, ‘‘ভারত কাঠামোগতভাবে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, কারণ দেশের প্রায় ৮৯ শতাংশ তেলের চাহিদা আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ৪৫-৫৫ শতাংশ তেল আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। যদিও আমরা রাশিয়া, আমেরিকা প্রভৃতি দেশ থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে উৎস বৈচিত্র্য করেছি, তবুও এখনও প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে— যা এখন একটি সংকটজনক ‘চোকপয়েন্ট’। অন্যদিকে, লোহিত সাগর দিয়েও জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে।”
শিপিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যখন আক্রমণের মুখে, তখন রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দৈনিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ভারতের কাছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৮ সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ‘এটি আমাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে,’ বলছেন তাঁরা।
২০২২ সালের পর থেকে ভারত তেল আমদানি করেছে বিভিন্ন উৎস থেকে। রাশিয়া, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকা থেকে তেল কেনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দীর্ঘমেয়াদি উপসাগরীয় সংকট তৈরি হয়, তাহলে ভারত আটলান্টিক অঞ্চলের দেশ ও রাশিয়া থেকে আরও বেশি তেল কিনতে পারে। তবে এতে পরিবহন ও বিমা খরচ বাড়বে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং ফুজাইরাহ পাইপলাইন ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এই পথেও জাহাজ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রধান প্রভাব হবে তেলের দামের অস্থিরতা এবং আমদানি খরচের বৃদ্ধি। কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা, ‘প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১ ডলার বাড়লে বছরে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।’
ইরানের চাবাহার বন্দর, যেখানে ভারত ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে, এই মাসের শুরুতে মার্কিন হামলার মুখে পড়ে। যদিও ভারতের পরিচালিত টার্মিনালে কোনও ক্ষতি হয়নি, তবুও বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই বন্দর ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের যে পথটি ভারত ব্যবহার করত, সেটি এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ভারতের শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এর ফলে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সও কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে ডলার ও ইউরোর মতো মুদ্রার তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্য কমতে পারে। রেটিং সংস্থা ক্রিসিলের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি জিডিপির ১.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যেখানে ২০২৬ অর্থবর্ষে তা ছিল ০.৬ শতাংশ। এই ঘাটতির প্রধান কারণ তেল আমদানি। তেলের দাম ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঘাটতিকে আরও বাড়াবে।
ভারতের জন্য এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ও বটে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। একইসঙ্গে, এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য এবং মধ্য এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ইরানের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক অপরিহার্য।
তেলের দাম বাড়লে ভারতের অর্থনীতিতে তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে ব্যবধান— যাকে ব্যালান্স অব পেমেন্টস বলা হয়— তা আরও চাপে পড়বে। পাশাপাশি, তেল ও খনিজের দাম বৃদ্ধির ফলে ‘আমদানি করা মূল্যস্ফীতি’ও বাড়বে। এই পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন, এই সমস্যার মোকাবিলার উপায় খুঁজতে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাস আগে ছিল ৬৯.৫০ ডলার। সরকারি আশঙ্কা, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের তেল আমদানি খরচ বেড়ে ১৭০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে আগে এই হিসাব ছিল প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, ‘‘ভারত কাঠামোগতভাবে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, কারণ দেশের প্রায় ৮৯ শতাংশ তেলের চাহিদা আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ৪৫-৫৫ শতাংশ তেল আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। যদিও আমরা রাশিয়া, আমেরিকা প্রভৃতি দেশ থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে উৎস বৈচিত্র্য করেছি, তবুও এখনও প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে— যা এখন একটি সংকটজনক ‘চোকপয়েন্ট’। অন্যদিকে, লোহিত সাগর দিয়েও জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে।”
শিপিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যখন আক্রমণের মুখে, তখন রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দৈনিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ভারতের কাছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৮ সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ‘এটি আমাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে,’ বলছেন তাঁরা।
২০২২ সালের পর থেকে ভারত তেল আমদানি করেছে বিভিন্ন উৎস থেকে। রাশিয়া, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকা থেকে তেল কেনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দীর্ঘমেয়াদি উপসাগরীয় সংকট তৈরি হয়, তাহলে ভারত আটলান্টিক অঞ্চলের দেশ ও রাশিয়া থেকে আরও বেশি তেল কিনতে পারে। তবে এতে পরিবহন ও বিমা খরচ বাড়বে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং ফুজাইরাহ পাইপলাইন ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এই পথেও জাহাজ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রধান প্রভাব হবে তেলের দামের অস্থিরতা এবং আমদানি খরচের বৃদ্ধি। কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা, ‘প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১ ডলার বাড়লে বছরে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।’
ইরানের চাবাহার বন্দর, যেখানে ভারত ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে, এই মাসের শুরুতে মার্কিন হামলার মুখে পড়ে। যদিও ভারতের পরিচালিত টার্মিনালে কোনও ক্ষতি হয়নি, তবুও বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই বন্দর ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের যে পথটি ভারত ব্যবহার করত, সেটি এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ভারতের শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এর ফলে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সও কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে ডলার ও ইউরোর মতো মুদ্রার তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্য কমতে পারে। রেটিং সংস্থা ক্রিসিলের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি জিডিপির ১.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যেখানে ২০২৬ অর্থবর্ষে তা ছিল ০.৬ শতাংশ। এই ঘাটতির প্রধান কারণ তেল আমদানি। তেলের দাম ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঘাটতিকে আরও বাড়াবে।
ভারতের জন্য এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ও বটে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। একইসঙ্গে, এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য এবং মধ্য এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ইরানের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক অপরিহার্য।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়লে এ ধরনের বৈঠক আবার হতে পারে।