পাঠ্যক্রম থেকে বাদ

প্রতীকী ছবি (Photo: Getty Images)

বিহার সরকার সম্প্রতি তিন বছর আগে স্নাতকোত্তর স্তর থেকে ছাপড়া জে পি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বাতিল হওয়া দুটি বিষয় আবারও সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাঠ্যক্রম থেকে জয়প্রকাশ নারায়ণ ও রামমনােহর লােহিয়ার কর্মকাণ্ড তিন বছর আগেই বাতিল করা হয়েছিল। হাজার হাজার মুক্তচিন্তা আমাদের মগজে নিয়ত উঠছে আর পড়ছে, সাহিত্যও তেমনই এক বিষয়।

কিন্তু ঐতিহাসিক ঘটনার পর্যালােচনা ও পরিসংখ্যানে তথ্যের ভিত্তি আবশ্যক। দুর্ভাগ্যক্রমে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম থেকে দুই দলিত লেখক বামা ও সুকীর্তারানির লেখা বাদ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্তরের মতবাদের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করার জন্যই এমন কাজ করেছেন কিনা তা জানা জরুরি।

কারণ দুই লেখকই দাবি করেছেন, জাতিগত ও লিঙ্গগত অবদমনের ইতিহাস তাদের লেখায় স্থান পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ সামাজিক এমন। ক্ষতগুলিকে আড়াল করতে চায় বলে অভিযােগ করেছেন দুই তামিল লেখক। তাদের মতে জাতিগত ও লিঙ্গগত অবদমন এক সামাজিক ব্যাধি, এবিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবগত হওয়া জরুরি।


এমন তথ্য দেশের সামাজিক পর্যালােচনার অঙ্গ তা কখনও শাসক দলের মনােমত হতে হবে তার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়। বিগত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্নাতক অনার্স ইংরেজি পাঠক্রম থেকে মহাশ্বেতা দেবীর লেখা ‘দৌপদী’ কাহিনি বাদ দিয়েছে।

এছাড়া কোনও কারণ ব্যতীতই বামার আত্মজীবনী ও সুকীর্তারানির কবিতা সংকলন-কৈমারি (ঋণ) এবং এন উদাল (আমার শরীর) বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক অসঙ্গতিসমূহ পাঠক্রমে স্থান না পাওয়ার ফলে সামাজিক প্রতিনিধিত্বমূলক, বিভিন্নতা এবং সামাজিক বিভিন্ন স্তরের প্রকৃত তথ্যগুলি আড়ালেও থেকে যাচ্ছে।

তাদের প্রশ্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা যদি জাতপাত বা সামাজিক অবদমন নিয়ে পর্যালােচনায় অংশ না নেয় তবে কি তারা জাতপাতহীন সমাজের কথাই শুধু জানবে? এপ্রশ্ন করেছেন দুই লেখক। আমরা কি শিক্ষার্থীদের সামাজিক প্রকৃত তথ্য না দিয়ে, কেবল কাল্পনিক কাহিনি বিষয়েই অবগত করব?

এই প্রশ্নও করেন দুই লেখক। এমনটাই যদিও চলছে শিক্ষা ব্যবস্থায়, এবং কোনও বিকল্প ব্যবস্থার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুকীর্তারানি। মহাশ্বেতা দেবীর ‘দৌপদী’ এক আদিবাসী মহিলার সরকারি নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানাের কাহিনি কে বাদ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে শাসক দলের সত্যকে গােপন করার প্রচেষ্টাই প্রকাশ পেয়েছে।

সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের প্রতি এক বঞ্চনার কাহিনিকেই তুলে ধরে। এমনকী সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শিক্ষক নির্বাচনেও সরকারি পক্ষপাতিত্বও প্রকট হয়ে উঠেছে। জে পি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পাঠক্রমে জয়প্রকাশ নারায়ণ ও রাম মােনহর লােহিয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি দেরিতে হলেও সুসিদ্ধান্ত বলেই মনে কল্পে বিশেষজ্ঞ মহল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটা একটা ভুল মাত্র। সেসময় কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রবক্তা এম এন রায় সহ জয়প্রকাশ নারায়ণ ও রাম মনােহর লােহিয়ার সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি বাতিল করার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব চরম বিরােধিতা করেছিলেন।

কিন্তু দেরিতে হলেও সেই ভুল শুধরে নিয়ে বিষয়গুলি সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিহার সরকার। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বিরােধী দুই লেখকের লেখা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।