হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় পিছু হটছে উন্নয়ন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

শোভনলাল চক্রবর্তী

দেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, বিজেপির সঙ্গে হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় নেমে কোনও দলই বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেনি। তার সবচেয়ে আদর্শ উদাহরণ অরবিন্দ কেজরীওয়াল ও তাঁর আম আদমি পার্টি। দিল্লিতে ক্ষমতায় টিকে থাকতে অরবিন্দ কেজরীওয়াল নিয়ম করে হনুমান মন্দিরে যাওয়া শুরু করেছিলেন। সরকারি খরচে সুন্দর কাণ্ড পাঠের ব্যবস্থা করেছিলেন। তীর্থযাত্রার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। মন্দিরের পুরোহিত, গুরুদ্বারের গ্রন্থীদের মাসিক ভাতার কথা ঘোষণাও হয়েছিল। বিজেপির সঙ্গে বিজেপির তৈরি হিন্দুত্বের পিচেই খেলতে নেমে দিল্লিতে গোহারা হারতে হয়েছে কেজরীওয়ালকে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীও এই ভুল করেছিলেন। সে বার ভোটের আগে আচমকাই রাহুল নিজেকে শিবভক্ত বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। ভোটের প্রচারের সময় মন্দিরে মন্দিরে যেতে শুরু করেন। রামের উপাসক বিজেপির বিরুদ্ধে নিজেকে শিবের উপাসক বলে তুলে ধরে রাহুল গান্ধী একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি। ২০১৪-র তুলনায় ২০১৯-এ আরও বেশি আসনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। হয়তো সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে নিজের শিবভক্তির কথা না বলে সংবিধান হাতে ভারত যাত্রা করেছিলেন রাহুল গান্ধী।

একই ভুল করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের দলিত নেত্রী মায়াবতী। ২০০৭-এ ‘বহুজন’ বা দলিত ভোটের সঙ্গে উচ্চবর্ণের ভোট যোগ করতে মায়াবতী ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর কথা বলেছিলেন। সেই ‘সোশ্যাল এঞ্জিনিয়ারিং’ তাঁকে লখনউয়ের গদিতে বসিয়েছিল। একই সূত্র মেনে ব্রাহ্মণ ভোট জিততে ২০২২-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিএসপি নেত্রী বেদমন্ত্রের সঙ্গে ত্রিশূল হাতে উদয় হয়েছিলেন। লাভ হয়নি। হিন্দুত্ববাদের সমর্থকরা হিন্দুত্বের আসল ব্র্যান্ড যোগী আদিত্যনাথকেই ভোট দিয়েছিলেন।


দেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, বিজেপির বিরুদ্ধে সাফল্য মিলেছে জাতপাতের অঙ্ক কষে। বিজেপি জাতপাত নির্বিশেষে গোটা হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করতে চায়। সেই হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক থেকে দলিত, অনগ্রসরদের একাংশকে বার করে আনতে পারলে যে সাফল্য মিলতে পারে, তার সব থেকে বড় উদাহরণ ২০২৪-এর লোকসভা ভোট। বিশেষ করে সেই লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশের ফলাফল। বিজেপি চারশোর বেশি আসনে জিতে সংবিধান বদলে দিতে চায় বলে রাহুল গান্ধী যে সংবিধান হাতে প্রচার করেছিলেন, তাতেই দলিত, অনগ্রসরদের একটা বড় অংশের ভোট বিজেপির থেকে সরে গিয়েছিল। বিজেপি লোকসভা আসনের সংখ্যায় তিনশোর ঘর থেকে লাফ দিয়ে চারশো পেরোনোর বদলে সোজা আড়াইশোর নীচে নেমে এসেছিল। কারণ ২০১৪ ও ২০১৯-এ প্রভাবশালী যাদব বাদে অন্যান্য ওবিসি, মায়াবতীর নিজস্ব জাটভ সম্প্রদায় বাদে অন্য দলিতরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। ২০২৪-এ তাঁরা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদব পিছড়ে-দলিত-অল্পসংখ্যক ভোটব্যাঙ্ককে পাখির চোখ করেই সাফল্য পেয়েছিলেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের সঙ্গে হিন্দুদের মধ্যে ওবিসি ও দলিত ভোটকে এককাট্টা করেই ইন্ডিয়া জোট উত্তরপ্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৪৩টি জিতেছিল। বিজেপি বাকি সব পরিচয় মুছে দিয়ে শুধু ভোটারদের হিন্দু পরিচিতিই জাগিয়ে তুলতে চায়। তাই হিন্দুদের মধ্যেই বিভিন্ন রকম পরিচিতি সত্তা জাগিয়ে তোলাটাই পরিচিতি সত্তার রাজনীতির কৌশল।তাৎপর্যপূর্ণ হল, কংগ্রেস বা অন্য দল বিজেপির সঙ্গে হিন্দুত্বের রাজনীতি করতে না পেরে জাতপাতের রাজনীতি বা পরিচিতি সত্তার রাজনীতির কৌশল নিয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম জমানাতেই পরিচিতি সত্তার রাজনীতি শুরু করে দিয়েছিলেন। মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তাঁর সঙ্গে ছিল।

পশ্চিমবঙ্গে মতুয়াদের মতো তফসিলি জাতি-ভুক্ত সমাজকে আলাদা ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে প্রাধান্য দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার সাফল্যের অন্যতম উপাদান। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যখন ধর্মীয় মেরুকরণে জোর দিচ্ছে, তখন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়িতে গিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার তফসিলি জাতি ও জনজাতি নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে রাজবংশী, গোর্খা, জৈন, নমশূদ্র সমাজের সঙ্গে লেপচা, ভুটিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

কারণ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮২টি বিধানসভা কেন্দ্রে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির ভোট গুরুত্বপূর্ণ। এ বার তফসিলি জাতি, জনজাতির সঙ্গে ওবিসি ভোটব্যাঙ্কও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাখির চোখ। তাই আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি ৭৬টি সম্প্রদায়কে নিয়ে নতুন ওবিসি তালিকা ঘোষণা করেছেন। ফলে রাজ্যে ওবিসি তালিকা ভুক্ত সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৪০-এ পৌঁছেছে। ভুললে চলবে না, ২০১১-র জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যায় তফসিলি জাতি, জনজাতির ভাগ প্রায় ২৯ শতাংশ। সেই জনগণনার সঙ্গে জাতগণনা হয়নি বলে ওবিসি-দের সংখ্যা নির্ধারণ হয়নি। কিন্তু মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি-র সংখ্যা জনসংখ্যার প্রায় ৪০ ভাগ। আদালতের সঙ্গে যুদ্ধ করে মমতা সেই ওবিসি ভোটব্যাঙ্ককেই বার্তা দিচ্ছেন। বিজেপি অভিযোগ তুলছে, মমতা মুসলিমদের ওবিসি-র তালিকায় নিয়ে এসে সংরক্ষণের সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছেন। অর্থাৎ মমতার ঝুলিতে যেমন সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তেমনই তাঁর পরিচিতি সত্তার রাজনীতিতে তফসিলি জাতি, জনজাতি ও ওবিসি সমাজও আছে। এর বাইরে যে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজ, ‘জয় জগন্নাথ’-এর মন্ত্রে তিনি সেই হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককেও কাছে টানতে চাইছেন। যাতে শুভেন্দু অধিকারীর হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এককাট্টা করে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার স্বপ্ন সফল হতে না পারে।

সমস্যা হল, এই হিন্দুত্ব বনাম জাতপাতের রাজনীতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নের কথা বরাবরই ধামাচাপা পড়ে যায়। বিজেপির প্রচারে তাই হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করার কথা থাকে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কী ভাবে শিল্পায়ন হবে, সেই উত্তর মেলে না। বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। কিন্তু তৃণমূলে থাকতে সিবিআই-ইডির খাতায় নাম উঠে যাওয়া নেতারা বিজেপিতে গেলে কী ভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে সমস্ত তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়, তা রহস্যই থেকে যায়।

এদিকে, এক জনের হাতে বিজেপির ঝান্ডা। গলা ফাটিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ বলে চিৎকার করছেন। অন্য জনের হাতে তৃণমূলের পতাকা। ‘জয় জগন্নাথ’ বলে জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। রাস্তার দু’দিকে দু’জন দাঁড়িয়ে। ক্রমশ গলার স্বর চড়ছে। ‘জয় শ্রী রাম’ রণহুঙ্কারের মতো শোনাচ্ছে। ‘জয় জগন্নাথ’ প্রায় শাসানিতে পরিণত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এই টুকরো দৃশ্য এখন দেশ জুড়ে ‘ভাইরাল’। হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতার এমন আদর্শ উদাহরণ আর হয় না। ‘জয় শ্রী রাম’ বনাম ‘জয় জগন্নাথ’-এর ভাইরাল ভিডিয়োয় নজর করলেই দেখা যাবে, তৃণমূল ও বিজেপির ঝান্ডাধারীরা যে রাস্তায় দু’পাশে দাঁড়িয়ে রাম ও জগন্নাথের নামে হুঙ্কার দিচ্ছেন, সেই রাস্তা খানাখন্দে ভরা, কাদা ও জলমগ্ন। ভাঙা রাস্তা দিয়েই বাইক, সাইকেল, পথচারীরা চলছেন। হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় উন্নয়ন বরাবরের মতোই হারিয়ে গিয়েছে। ওদিকে, শীর্ষ আদালতের এজলাসেই প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে জুতো ছোড়ার ঘটনাটি নিতান্ত বিচ্ছিন্ন, এমন দাবি করার কোনও উপায় আজকের ভারতে নেই। যে আইনজীবী এই অপকর্মটি করেছেন, তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, সনাতন ধর্মের কোনও অপমান তিনি সহ্য করবেন না, এবং এই দুষ্কর্মের জন্য তিনি আদৌ অনুতপ্ত নন। অমৃতকালের ভারতে এমন কথায় আর কেউ বিস্মিত হন না। গত দশ বছরে সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র প্রশ্নাতীত ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে, সংবিধান-বর্ণিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ ভারত’-এ ‘সনাতন ধর্ম’ অর্থাৎ হিন্দু ধর্মই মুখ্য। সত্যের খাতিরে বলতে হয়, এই অমৃতকালেই দেশের শীর্ষ আদালত মানুষের— অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের— ‘ভাবাবেগ’কে মান্য করে অযোধ্যায় মন্দির বানানোর অনুমতি দিয়েছে; সেই মন্দিরের উদ্বোধনী পূজা করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং; এবং সে রাজ্যেই ধর্মীয় পোশাক পরে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বিরাজমান আরও এক জন। ভিন দেশ থেকে আগত হিন্দুদের ‘শরণার্থী’, এবং মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য আইন রূপায়িত হয়েছে এ দেশে। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি বুলডোজ়ার গুঁড়িয়ে দেয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ধর্মস্থান; বহু শতাব্দীপ্রাচীন মোগল সম্রাটের সমাধিও বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। ভারত যে প্রকৃত অর্থ হিন্দুরাষ্ট্র, সে কথাটি জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ফলে, সেই ধর্মের ‘অবমাননা’ হিন্দুত্ববাদী জনগণের কাছে ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’— এবং, সে অপরাধ যিনিই করে থাকুন, তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাচ্চা সনাতনী হিন্দুর আছে।

প্রধান বিচারপতি স্বয়ং দৃশ্যত এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। শীর্ষ আদালতের অন্য দুই বিচারপতিও বলেছেন, আর কথা না বাড়িয়ে এ বার ঘটনাটিকে পিছনে ফেলে যাওয়াই ভাল। তাঁদের এই অবস্থানের কারণ বুঝতে অসুবিধা হয় না। কিন্তু, ভারতের পক্ষে এই ঘটনাটি না ভোলাই বিধেয়। এই আইনজীবী প্রকৃত প্রস্তাবে চুম্বকে ধরে দিয়েছেন আজকের ভারতের অবস্থাটি। এবং, সমগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্র এই ঘটনাটিকে যে ভাবে প্রচ্ছন্ন সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে, ঘটনাটি পূর্বাপরহীন নয়। দেশের নেতারা ভাবুন, তাঁরা মাত্র এগারো বছরে কী ভয়ঙ্কর এক সমাজ তৈরি করতে সক্ষম হলেন, যেখানে এক জন আইনজীবীর কাছেও শীর্ষ আদালতের আর কোনও সম্মান নেই।ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতির জাতিগত পরিচয়টিও ভুললে চলবে না। এই অমৃতকালে ভারতে দলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত মানুষের নিগ্রহ কার্যত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার ‘অপরাধ’-এ প্রহার থেকে স্কুলে উচ্চবর্ণের ছাত্রদের জন্য নির্দিষ্ট পাত্র থেকে জল পান করায় নিগ্রহ, ঘটনার তালিকা দীর্ঘ। গত দশ দিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের প্রহারে প্রাণ হারিয়েছেন হরিওম বাল্মীকি নামে এক দলিত, ধর্ষিতা হয়েছে এক দলিত নাবালিকা; লাগাতার হেনস্থা সহ্য করতে না পেরে দিল্লিতে আত্মঘাতী হয়েছেন পূরণ কুমার নামে এক আইপিএস অফিসার। আশঙ্কা হয়, সনাতন ধর্মের স্বঘোষিত রক্ষকটি যখন প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে জুতো ছোড়ে, তখন তাঁর জাতিগত পরিচয়টি সে ভোলেনি— তথাকথিত নিম্নবর্ণের এক জন সনাতন ধর্মের অপমান করেছেন, এই কথাটি সম্ভবত সেই রক্ষকের কাছে আরও বেশি অসহনীয় হয়েছিল। ঘটনাপ্রবাহ এমনই যে, এই দুর্ভাগ্যজনক আশঙ্কাটিকে অগ্রাহ্য করার কোনও উপায় ভারতের কাছে নেই। গোলওয়ালকর-দৃষ্ট হিন্দু ভারতে বর্ণাশ্রম অবশ্যমান্য— দেশের কর্তারা যখন সেই ভারত প্রতিষ্ঠা করেই ফেলেছেন, তখন আর পদাতিকরা হাত গুটিয়ে থাকবে কেন?