পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি

বিগত দুই বছরে অনলাইন-অফলাইনে পাঠক্রম অভ্যেসের বিতর্কের মধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি এএম খানউইলকার, দীনেশ মাহেশ্বরী এবং সিটি রবি কুমার দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে এক আবেদনে ‘ক্ষতিকর পরামর্শ বা অসম্পূর্ণ’ বলে দাবি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘মিথ্যা আশা এবং বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়েছেন।


বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ হল বিগত দুই বছরে পাঠক্রম অভ্যেসের পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত।

বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এই পদ্ধতি কোনও সদর্থক বার্তাই পৌঁছে দিতে পারেনি। আর ভারতের আর্থিক অবস্থানই গ্রামভিত্তিক।

বেঞ্চ তাঁদের পর্যবেক্ষণে আরও জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) এর মতো কর্তৃপক্ষ ‘শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা’ গ্রহণের বিষয়ে কোনও নিয়ম নীতি এবং প্রক্রিয়া বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিও জারি করেনি। ফলে এই মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট আদেশ জারি করা সমীচিন নয়।

বিচারকরা জানতে চেয়েছেন ‘কি ধরনের আবেদন দাখিল করা হচ্ছে?” কি ধরনের আবেদন দাখিল করা হচ্ছে? এই ধরনের আবেদন দাখিলের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ধরনের পিআইএল মিথ্যা আশার সৃষ্টি করছে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এই ধরনের আবেদন দাখিলের ফলে

বেঞ্চ শিশু সুরক্ষা অধিকার কর্মী অনুভব শ্রীবাস্তব সাহাই এর সিবিএসই, আইসিএসই এবং রাজ্য পর্ষদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতির মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দেশ সম্পর্কিত মামলার বিচার চলছে।

বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে কোনও শিক্ষার্থী কিন্তু এব্যাপারে কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। অবশ্য ভয় থেকে শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকেন।

সিদ্ধান্ত বা নীতি নির্ধারণের পর এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নীতি ও নিয়মের অনুসারী না হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়।

বেঞ্চ নিজে থেকে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

নিয়ম নীতি রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতনভাবেই কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সারা বছর ধরে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি শিক্ষায় যোগ দেওয়ারই সুযোগ পায়নি।

ফলে এমন অবস্থায় পরীক্ষার কোনও প্রশ্নই ওঠে না বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীর সওয়ালের জবাবে বিচারপতিরা জানতে চান এমন সিদ্ধান্ত জানানোর আপনার অধিকার আছে কিনা বা বিচারপতিদেরই কি সব সময় এমন সিদ্ধান্ত জানাতে হবে?

কর্তৃপক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে। করোনা অতিমারির ক্ষতিকর প্রভাব শিক্ষা বিভাগকেই বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে বিচারপতিরা মন্তব্য করেন।

মনে রাখতে হবে অনলাইনে নির্দেশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনও সময়েই উপযুক্ত হতে পারে না। এক্ষেত্রে অনলাইন পরীক্ষায় বসার নির্দেশ বা প্রশ্নপত্রের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তেমনভাবে অভ্যস্ত নয়।

ফলে অনলাইন পরীক্ষা কখনই শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর পাঠাভ্যাস ব্যতীতই তাদের পরীক্ষায় বসতে বলাও তেমন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।