আলফা নেতা ঢাকায়

ফাইল চিত্র

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে আলফা (স্বাধীন) নেতা পরেশ বড়ুয়া এখন বাংলাদেশে এসেছেন— তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জামাইতে ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা। তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন জামাতপন্থী প্রাক্তন সেনা অফিসাররাও। এতদিন পরেশ বড়ুয়া মায়ানমারের একটি গ্রামে বাস করছিলেন তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে। কিন্তু সেখান থেকে তাঁর কাজকর্ম করতে অসুবিধে হচ্ছিল। বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আলফা নেতার আশা বিশেষ তাৎপর্য বলে মনে করছেন। ঢাকায় বসেই তিনি তাঁর পরিকল্পনা করছেন কীভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতে অশান্তি ও নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানো যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জামাতপন্থী প্রাক্তন সেনা অফিসাররা অনেকদিন থেকেই বলে আসছেন উত্তর-পূর্ব ভারতকে অশান্ত করে সেখানে বাংলাদেশের আধিপত্য বিস্তার করতে। সুতরাং এই নেতারা পরেশ বড়ুয়াকে এই কাজের জন্য প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই আলফা নেতা উত্তর ভারতকে কীভাবে অশান্ত করা যায়, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন। নতুন পরিকল্পনা করছে।

ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহে এই আলফা নেতা বাংলাদেশে বসে ঘাঁটি গেড়েছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে জামাত নেতাদের সাথে তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছেন। বাংলাদেশের ডিডি পদমর্যাদার একজন অফিসারও এই আলফা নেতার সঙ্গে দেখা করে পরেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শুনেছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁকে সবরকম সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতের গোয়েন্দা সূত্র বলেছে সম্প্রতি চট্টগ্রামে ওই আলফা নেতাকে ‘সেফ হাউসে’ রাখা হয়। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আসেন।


ঢাকাতেও তাঁকে গোপন আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরেশ চট্টগ্রামে থাকাকালীন জামাত ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সেনা অফিসার রেজাউল হায়দার করিম পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করে তাঁর ভবিষৎে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনার মূল বিষয় হল কী করে উত্তর-ভারতের রাজ্যগুলিতে অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ঢাকায় আসার পরও এই প্রাক্তন সেনা অফিসারের সঙ্গে বৈঠক হয়। বিশেষ সূত্রের খবর, ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটকের ঘটনায় পরেশ ও রেজাউল করিম জড়িত ছিলেন। তাঁদের দু’জনের মধ্যে সখ্য বহুদিনের। রেজাউল ছাড়াও পরেশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাক্তন সেনা অফিসার আবদুল্লাহিল জামান। সূত্রের খবর মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে থাকা আলফার ঘাঁটিগুলিতে ভারত তিন দফায় হামলা চালিয়েছে। তাতে আলফার ১৭ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে ছিল পরেশের ডানহাত বলে পরিচিত নেতা নয়ন মেধা। নয়ন মেধা নিহত হওয়ার পর পরেশের ওপর পুরো দায়িত্ব বর্তেছে।

পরেশের কাছে মায়ানমারের পর বাংলাদেশই সুবিধাজনক জায়গা, যেখান থেকে উত্তর ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করতে পারে। এই সময় বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়ার পর হামাস উগ্রপন্থীরা তাঁকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে এখন কিছুটা ফাটল ধরেছে। কিন্তু আলফা নেতা পরেশকে আশ্রয় দেওয়া ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত। এমনিতেই গত আগস্ট মাসে গণ অভ্যুত্থানের পর তদারকি সরকার বাংলাদেশের শাসন ভারের দায়িত্ব নিয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে ভারত বিদ্বেষ অনেক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়দার করেছে। বাংলাদেশের এক নেতা বলেছেন, অতীতের সবকিছু ভুলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন ভাই ভাই। চিনও বাংলাদেশে তার কর্তৃত্ব বজায় রেএেখছে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আলফা নেতা প্রশকে আশ্রয় দেওয়া ভারত ভালো ভাবে নিচ্ছে না। তবে ভারতের গোয়েন্দারা আলফা নেতার বাংলাদেশ থেকে কী কী কাজ করছে তার খবর রয়েছে। সাউথ ব্লকের একজন শীর্ষ আধিকারিক বলেছেন, পরেশ বড়ুয়াকে আশ্রয় দেওয়া এবং তার কর্মসূচি রূপায়ণে সাহায্য করা একটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও ক্ষতি হবে।