সাধারণত দিনের আলোতেই শহরের রাস্তায় ঝাড়ু হাতে সাফাইকর্মীদের দেখা যায়, আর সেই ছবিতে অধিকাংশ সময়েই থাকেন মহিলারা। কিন্তু এবার সেই পরিচিত দৃশ্য বদলে দিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ নিল কোচবিহার পুরসভা। রাতের অন্ধকারেই ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামছেন ৩১ জন মহিলা সাফাইকর্মী। রাত ১০টা থেকে ২টো পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে শহর জুড়ে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের পরিচ্ছন্নতা আরও উন্নত করতে সম্প্রতি ‘নাইট কনজারভেন্সি’ পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই পরিষেবার আওতায় বিশেষভাবে ৩১ জন মহিলা ঝাড়ুদারকে নিয়োগ করা হয়েছে। রাত নামলেই তাঁরা দলবদ্ধভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা— কেশব রোড বাসস্ট্যান্ড, হরিশ পাল চৌপথি, ভবানীগঞ্জ বাজার, হাসপাতাল চৌপথি, সাগর দিঘি এবং বৈরাগী চত্বর সহ একাধিক এলাকায় সাফাই অভিযানে নামছেন।
পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনের বেলায় নিয়মিতভাবে শহরের বাড়ি, বাজার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু দেখা গিয়েছে, শহরের বেশ কিছু এলাকায় রাতেও বাজার বসে এবং বহু অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। ফলে রাতের সময়েও প্রচুর আবর্জনা জমে যায়। সেই সমস্যা দূর করতেই দিনের পাশাপাশি রাতেও সাফাই পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কাজে মহিলা কর্মীদের পাশাপাশি পুরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পুরুষ কর্মীরাও সহযোগিতা করছেন। পুরসভার বিশেষ গাড়িতে করে রাতেই সমস্ত আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শহরবাসী যখন দিনের ক্লান্তি শেষে ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই নীরবে শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন এই মহিলা কর্মীরা। মহিলা কর্মীরা রাতে কাজ করছেন বলে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পুলিশি টহলদারি চালানো হচ্ছে এবং পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররাও পালাক্রমে রাতে সাফাই কাজ পরিদর্শন করছেন।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা বলেন, ‘কোচবিহার শহর সবসময়ই নিরাপদ। মহিলারা রাতেও এখানে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন। শহরকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই রাতের সাফাই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। আপাতত মাসিক সাত হাজার টাকা বেতনে মহিলাদের নিয়োগ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কর্মী নিয়োগ করা হবে।’
পুরসভার এই উদ্যোগ শুধু শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রেই নয়, বরং মহিলাদের কর্মসংস্থান এবং তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোচবিহার যে মহিলাদের জন্য নিরাপদ এবং প্রগতিশীল শহর হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।