বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাকে গ্রেপ্তার। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বহরমপুরে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে শুক্রবার গভীর রাতে বহরমপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি রাজু মণ্ডলকে।
পুলিশ ও কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োর ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিয়োতে অভিযুক্ত নেতাকে ভোটারদের হুমকির সুরে উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘কে, কোথায় ভোট দিচ্ছে, সব নজরে রাখা হবে। খাতায় লেখা থাকবে। লাইভ ভোটিং চলবে।’ শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। ভোট দিতে না গেলেও সমস্যা নেই। বাড়িতে মিষ্টি পৌঁছে দেওয়া হবে। আর ভোট দিলে তৃণমূলকেই দিতে হবে।’
এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি নজরে আসার পরই নির্বাচন কমিশন দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কোনওভাবেই ভোটারদের প্রভাবিত বা হুমকি দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পরই বহরমপুর থানার পুলিশ ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করে। এরপর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনি পথে এর মোকাবিলা করা হবে। ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনায় বহরমপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।