মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার মুর্শিদাবাদে এসেছিলেন জোড়া সভা করতে। একটি সামশেরগঞ্জে এবং অন্যটি জিয়াগঞ্জে। কিন্তু ওই দুই সভা শেষে তিনি জেলা সদর শহর বহরমপুরে আসেন। এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটানা প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে প্রচার করেন। গীর্জার মোড়ে যে পদযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা খাগড়া চৌরাস্তা পেরিয়ে গিয়ে শেষ হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা ঘিরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকের মধ্যেই একটা উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
সম্ভবত সে কারণেই এই পদযাত্রার পরে এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘দিদি যতটা হেঁটেছেন, ততটা হাঁটার কথা ছিল না। আমি এবং আমাদের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার মিলে দিদিকে বলেছিলাম প্রায় দু’কিলোমিটার মানে খাগড়া চৌরাস্তার নেতাজী স্ট্যাচু পর্যন্ত হাঁটতে। কিন্তু দিদি তারও অনেক বেশি হেঁটেছেন। হাঁটার পরে বলেন, দেখ নাড়ু তোর জন্য এক্সট্রা হেঁটে দিলাম। পদযাত্রার পরে দিদি আমাকে এটাও বললেন, লোকজনের মুখ দেখে দিদির মনে হয়েছে, এবার সবাই দিদির পক্ষেই ভোট দেবেন। দু’একজন বাদ দিয়ে নব্বই শতাংশ শহরের মানুষ এবার দিদির পক্ষেই যাবেন। দিদি আমাকে এও বলেন, বাকিটা তোরা সময়ের অপেক্ষা কর। দ্যাখ দিদির কাছেই এবার সব মানুষজন আসবে।’
প্রসঙ্গত, রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ এক সঙ্গে পা মিলিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বহু মহিলা এবং ছাত্র-যুবরা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন তৃণমূলের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং অধ্যাপকদের সংগঠনের সদস্য-সদস্যা শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অধ্যাপকরা।
তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ড: পার্থসারথি সরকার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসংখ্য প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা পা মিলিয়েছেন। বিরোধী সিপিএম এবং বিজেপি শিক্ষক সংগঠনের লোকজন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। কারণ শিক্ষক-শিক্ষিকারা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। নেত্রীর প্রতিই তাঁদের আস্থা রয়েছে। সেটা ফের তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রার দিন প্রমাণ করে দিয়েছেন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই বহরমপুর সহ জেলার ২২টি কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনেই প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমর্থন আরও বাড়বে বলে আমি আশাবাদী।’