রাতভর নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে উদ্ধার করা হয় এক তৃণমূল নেতার দেহ। বীরভূমের কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধলটিকুড়ি গ্রামের ঘটনা। শনিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই ব্যক্তি। রবিবার সকালে ধলটিকুড়ির একটি মাঠে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয়ে পুলিশকে। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ওই নেতাকে খুন করা হয়েছে। দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। এরপর পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃতের নাম মদন লোহার (৫০)। তিনি শান্তিনিকেতনের তৃণমূলের প্রাক্তন বুথ সভাপতি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। তারপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের তরফে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনও লাভ হয়নি। এরপর রবিবার সকালে ধলটিকুড়ি এলাকার মাঠে মদনের দেহ দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর কান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তেও দেখেন স্থানীয়রা। যদিও শরীরের অন্য অংশে তেমন কোনও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মদনকে খুন করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পরিবার ও স্থানীয়রা। শান্তিনিকেতন থানার পুলিশকে দেহ উদ্ধার করতে বাধা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা মৃতদেহ নিয়ে যেতে দেবেন না। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবিও জানান তাঁরা। পরে পুলিশের আশ্বাস পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তখন মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এই মৃত্যুর পিছনে কোনও রাজনৈতিক শত্রুতা রয়েছে নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশে মদনকে খুন করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।