সিউড়ি সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে চার্জে থাকা ফোনে বিস্ফোরণ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সিউড়ি সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে চার্জে রাখা একটি কিপ্যাড ফোন আচমকাই বিস্ফোরণের জেরে চাঞ্চল্য ছড়াল হাসপাতাল চত্বরে। ঘটনায় কেউ আহত না হলেও মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা ওয়ার্ডে। বিস্ফোরণের সময় শিশু বিভাগের মূল গেট বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পরে কর্তব্যরত নার্সরা গেট খুলে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু বিভাগে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা ওয়ার্ডের ভিতরেই একটি কিপ্যাড ফোন চার্জে বসিয়েছিলেন। চার্জ সম্পূর্ণ হলে তিনি ফোনটি পাশের একটি ফাঁকা বেডের বালিশের উপর রেখে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা বিকট শব্দ করে ফোনটি ফেটে যায়। আতঙ্কে ওই মহিলা ফোনটি মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলেন। এর পর ফোন থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। এই ঘটনায় ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য অভিভাবকরাও ভয় পেয়ে যান। শিশুদের কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই সময় শিশু বিভাগের মূল গেট তালাবন্ধ থাকায় কেউই বেরোতে পারছিলেন না। ফলে ওয়ার্ডের ভিতরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত নার্সরা গেটের তালা খুলে দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁরা বিস্ফোরিত ফোনটি উদ্ধার করে ওয়ার্ডের বাইরে নিয়ে যান। ধোঁয়া কমে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অভিভাবকরা পুনরায় শিশুদের নিয়ে ওয়ার্ডে ফিরে যান।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশু বিভাগের ভিতরে ফোন চার্জ দেওয়া ও ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম না মানার ফলেই এই বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সিউড়ি সদর হাসপাতালের সুপার প্রকাশ বাগ বলেন, ‘ওয়ার্ডের ভিতরে অনেকেই গোপনে ফোন নিয়ে যান এবং চার্জ দেন। সামান্য অসতর্কতার কারণেই এমন বিপত্তি ঘটেছে।’ তিনি আরও জানান, গোটা ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।