এসআইআর শুনানির জের, নথি সংগ্রহে ভিড় পঞ্চায়েতে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতে পঞ্চায়েত কার্যালয়গুলিতে গত কয়েকদিনে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। প্রায় দেড় দশক আগের একটি সমীক্ষার নথি এখন হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই নথিই পরিচিত ‘এসআইআর’ নথি নামে।

পঞ্চায়েত কর্মীদের দাবি, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গত সাত দিনে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসগুলিতে মানুষের ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ প্রায় শিকেয় তুলে কর্মীদের এখন একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাগরিকত্ব প্রমাণে সহায়ক ওই পারিবারিক নথি খুঁজে বার করে মানুষকে দেওয়া। বহু সরকারি নথি বিশেষ নিবিড় সংশোধনে গ্রাহ্য না হওয়ায় সাধারণ মানুষ কার্যত দিশেহারা।

যে অল্প কয়েকটি নথি মান্যতা পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ২০১১ সালের আদমশুমারির সময় হওয়া পরিবারভিত্তিক সমীক্ষার তথ্য। ‘রুরাল হাউজহোল্ড সার্ভে’ নামে পরিচিত এই সমীক্ষায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। সেই নথিই এখন ‘এসআইআর’ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় ১৫ বছর আগের ধুলো জমা ফাইল নতুন করে খুঁজে বার করতে হচ্ছে।


এই নথি মূলত সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস ও নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতেই মজুত রয়েছে। মালবাজার ব্লকের অন্যতম বড় গ্রাম পঞ্চায়েত ওদলাবাড়িতে এখন সব কাজ বন্ধ রেখে ওই সমীক্ষার নথি বার করে গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ চলছে। ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রজত কুমার বলেন, ‘১৫ বছর আগের এই সমীক্ষার কথা আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। লোকের মুখে শুনে দু’দিন লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে সেই নথি পেয়েছি।’

তৃণমূল নেতা তমাল ঘোষের দাবি, ‘যে নথিতে মানুষের সুবিধা হচ্ছে, সেই নথি দেওয়ার জন্য আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে অনুরোধ করেছি।’ তাঁর ভ্রাতৃবধূ মৌমিতা ঘোষ ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তিনি জানান, ‘প্রধানের স্বাক্ষর কমিশন মানছে না। তাই বিকল্প হিসেবে এই সমীক্ষার নথি দিয়েই ভোটারদের সাহায্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে পুরসভা এলাকায়। অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে আলমারি ঝেড়ে ওই নথি মিললেও পুরসভাগুলির কাছে এ ধরনের কোনও তথ্য নেই। জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার, ধূপগুড়ি-সহ একাধিক পুরসভায় একই পরিস্থিতি। মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই মহকুমা শাসকের দপ্তরে খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও পুরসভা এলাকার কোনও সমীক্ষা নথি পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও নথি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি পুরকর্তৃপক্ষের। ফলে নাগরিকত্ব প্রমাণে যে হাউজহোল্ড সার্ভে রিপোর্ট ডোমেসাইল নথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেই ক্ষেত্রে পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা স্পষ্টভাবেই পিছিয়ে পড়ছেন। কেন পুরসভায় এই নথি নেই, তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের কথায়, ‘আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা কখনও এই সমীক্ষার নথি পুরসভায় দেখেননি।’