প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য-সহ চার জনকে মারধরের অভিযোগ

প্রতীকী চিত্র

পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তার কাজের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ভয়াবহ উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ল মালদার চাঁচলে। অভিযোগ, ওই প্রতিবাদের জেরেই প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য-সহ চার জনকে মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সিপিএমের এক পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর দলবল। পাশাপাশি, স্থানীয় কংগ্রেসের একাংশও এই হামলায় যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে চাঁচল থানার অন্তর্গত মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য সামিম আক্তার সরকার। গুরুতর জখম অবস্থায় সামিম-সহ চার জনকে রাতেই চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক জনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন গভীর হওয়ায় তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার পরেই চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মামুন আক্তার সরকার, যিনি সামিম আক্তার সরকারের ভাই। অভিযোগপত্রে সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য মহবুল হক-সহ মোট পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।


আক্রান্ত সামিম আক্তার সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকপাড়া এলাকায় পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় কংক্রিটের ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছিল, কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এবং অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই অনিয়মের প্রতিবাদ করতেই আমার উপর হামলা চালানো হয়। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে দলের আরও কয়েকজন কর্মী মারাত্মকভাবে জখম হন।’

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় মহল।