মাদক কারবারে বড় ধাক্কা, শিলিগুড়ির বিশেষ টাস্ক ফোর্সের প্রথম সাফল্য

শহর ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি মাদক কারবার রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। মাদক পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ ‘অ্যান্টি নার্কোটিক্স টাস্ক ফোর্স’। শুক্রবার এই বিশেষ বাহিনীর কথা ঘোষণা করেন ডিসিপি রানা মুখোপাধ্যায় এবং কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ। আর এই ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মিলল বড়সড় সাফল্য। পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ পোস্ত ও ব্রাউন সুগার উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, গুয়াহাটি থেকে দিল্লিতে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের পরিকল্পনার খবর পায় বাগডোগরা থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে সিংঝোরা মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি মালবাহী লরি আটকে তল্লাশি চালিয়ে ১৭টি প্যাকেট থেকে মোট ৫১০ কেজি পোস্ত উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে লরির চালক গৌরব কুমার যাদব এবং খালাসি সুমন উদ্দিন লস্করকে। ধৃতদের মধ্যে একজন উত্তরপ্রদেশ এবং অন্যজন আসামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মাটিগাড়া থানার পুলিশ পাঁচকেলগুড়ি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৪ গ্রাম ব্রাউন সুগারসহ গৌরাঙ্গ বর্মন নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই ব্যক্তি এলাকায় মাদক সরবরাহ করতে এসেছিল। ডিসিপি কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ জানান, নবগঠিত বিশেষ বাহিনী শুধুমাত্র মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে কাজ করবে। তাঁর কথায়, ‘এটি আমাদের জন্য বড় সাফল্য। শহর থেকে মাদকের কারবার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’


পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার তত্ত্বাবধানে গঠিত এই টাস্ক ফোর্স পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশেষ এই দলে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক এবং দক্ষ পুলিশ কর্মীদের রাখা হয়েছে। কমিশনারেটের প্রতিটি থানাতেও দু’জন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় স্তরে দ্রুত অভিযান চালানো যায়।

এদিকে, শহরে ভোট পরবর্তী হিংসার কোনও খবর নেই বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ডিসিপি রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শিলিগুড়ি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবুও আমরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছি। বর্তমানে কমিশনারেট এলাকায় সাত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’ মাদক পাচার এবং অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হলে অনুপ্রবেশ এবং পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারকারীদের নজরে। নেপাল এবং বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে মাদক ঢোকার প্রবণতা রুখতে আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।