যুবনেতার হুমকিতে ভিটেমাটি ছাড়লেন বৃদ্ধ দম্পতি, রানাঘাটে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

আত্মীয় শাসকদলের প্রবীণ নেতা। তবু রক্ষা হল না। শাসকদলের এক যুবনেতার ‘তাণ্ডব’ ও ‘লাগাতার খুনের হুমকি’র জেরে কোটি টাকার সম্পত্তি ‘জলের দরে’ বিক্রি করে ভিন্‌রাজ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন নদিয়ার রানাঘাটের এক বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে এলাকায়। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

জানা গিয়েছে, নদিয়া জেলার রানাঘাট থানার নোকাড়ি জহুরা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের বসবাস ছিল রঞ্জিত ও অঞ্জলির। বর্তমানে তাঁরা মধ্যপ্রদেশের ভোপালে আশ্রয় নিয়েছেন। দম্পতির অভিযোগের তির তৃণমূলের স্থানীয় প্রাক্তন অঞ্চল যুব সভাপতি দীপঙ্কর মোদক ও তাঁর সহযোগী মধু বিশ্বাসের দিকে।

রঞ্জিতের দাবি, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বাড়ি দখলের চেষ্টা চলছিল। দীপঙ্কর মোদক ও মধু বিশ্বাস বারবার খুনের হুমকি দিত। মানসিক হেনস্থা এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।’ তাঁদের কথায়, বাড়ির চারপাশে অচেনা লোকজনের আনাগোনা, রাতবিরেতে হুমকি— সব মিলিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছিল।


দম্পতির আরও অভিযোগ, কুপার্স পুলিশ ফাঁড়ি ও রানাঘাট থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। উল্টে প্রভাবশালী নেতাদের দাপট আরও বাড়ে। অঞ্জলি বলেন, ‘পুলিশের কাছে গিয়েও সুরাহা পাইনি। শেষ পর্যন্ত প্রাণের ভয়ে বাড়ি বিক্রি করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছি।’

উল্লেখ্য, রঞ্জিত নিজেও একসময় সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি রানাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি। পাশাপাশি বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা জগদীশ মণ্ডলের আত্মীয় হিসেবেও পরিচিত। ফলে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই এমন অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দীপঙ্কর মোদক। তাঁর দাবি, ‘ওই পরিবার দেনা মেটাতে না পেরে স্বেচ্ছায় বাড়ি বিক্রি করেছে। জোরজুলুমের গল্প সাজানো হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টি রঙ চড়ানো হচ্ছে। এদিকে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দাপটের জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঘটনায় পুলিশের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রশ্ন উঠছে, লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও কেন পদক্ষেপ হয়নি? কোটি টাকার সম্পত্তি ‘জলের দরে’ বিক্রির নেপথ্যে আদৌ কি ভয়, না কি অন্য কোনও কারণ— তা নিয়েই এখন সরগরম রানাঘাট।