নিজের চেম্বারেই নৃশংস খুন কোয়াক চিকিৎসক, রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের

প্রতীকী চিত্র

চেম্বারের ভিতরেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন এক কোয়াক ডাক্তার। খুনের পর কোমরে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র ঝুলিয়ে সোজা থানায় হাজির অভিযুক্ত যুবক। মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তোলপাড় বর্ধমান শহর। মৃত চিকিৎসকের নাম রাজা ভৌমিক। বয়স ৫৫ বছর। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা রাজা দীর্ঘদিন ধরে কোয়াক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্ধমান গ্রামীণ ব্যাঙ্কের নীচে অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে একটি চেম্বারে বসতেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত মুখ ছিলেন রাজা ভৌমিক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শক্তিগড়ের আমড়া এলাকার বাসিন্দা জীবন রুইদাস তাঁর ঠাকুমার চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রাজা ভৌমিকের কাছে যেতেন। কিছুদিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভ জমছিল জীবনের মনে। অভিযোগ, সেই ক্ষোভ থেকেই ভয়ংকর পরিণতি। মঙ্গলবার প্রতিদিনের মতো সময়মতো চেম্বার খুলেছিলেন রাজা ভৌমিক। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, চেম্বার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই জীবন চেম্বারের ভিতরে ঢোকে। এরপর চেম্বারের ভিতর থেকে তীব্র বচসার শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিৎকার থেমে যায়।

অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজা ভৌমিককে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে খুন করে জীবন। এরপর চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায় অভিযুক্ত। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা চেম্বারের ভিতরে ঢুকে চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছু সময় পরই আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। জীবন নিজেই কোমরে ঝোলানো রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র নিয়ে থানায় হাজির হয়। ডিউটিতে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের সে জানায়, বাদামতলা এলাকায় এক চিকিৎসককে সে খুন করেছে। নিজের হাতেই ব্যবহৃত অস্ত্র তুলে দেয় পুলিশের হাতে।


খবর পেয়ে দ্রুত বাদামতলার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। চেম্বার থেকে রাজা ভৌমিকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃতের মাথার পিছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে জীবনের দাবি, রাজা ভৌমিকের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই দাবি কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খুনের পিছনে আর কোনও ব্যক্তি যুক্ত আছে কি না, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিনের আলোয় এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় বর্ধমান শহর জুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।