শুনানি ঘিরে বিজেপি-তৃণমূলের হাতাহাতি, উত্তেজনা বর্ধমান ও নদিয়ায়

এসআইআরের শুনানিতে ৭ নম্বর ফর্ম জমা নেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক দপ্তরের সামনে। শনিবার তৃণমূল ও বিজেপির স্লোগান পাল্টা স্লোগানে উত্তেজনার পারদ বাড়তেই ঘটনাস্থলে চলে আসে বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে পুলিশের সঙ্গেই ধস্তাধস্তি থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

এদিন বিজেপির অভিযোগ, ৭ নম্বর ফর্ম জমা নিচ্ছেন না বর্ধমান উত্তর মহকুমাশাসক রাজর্ষি নাথ। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়, বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মহকুমাশাসকের দপ্তরে শুনানি চলার সময় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে। তৃণমূল তাতে বাধা দিয়েছে। পুলিশ প্রথমে দু’পক্ষকেই বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিজেপির পক্ষ থেকে উত্তেজিত কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু করে দেয়।

এমনকি কর্তব্যরত পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিও করে ফেলে তারা। এরপরই পুলিশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থককে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দু’পক্ষকেই এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বিশাল র‍্যাফ বাহিনী মোতায়েন করা হয় জেলাশাসক দপ্তরের সামনে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।


অন্যদিকে, তৃণমূল-বিজেপির হাতাহাতিতে সরগরম কল্যাণী প্রশাসনিক ভবন চত্বর৷ শনিবার কল্যাণী প্রশাসনিক ভবনে এসআইআরের ফর্ম-৭ জমা দিতে আসেন কল্যাণী বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় ও বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা প্রশাসনিক ভবনের মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের পথ আটকান৷ এরপর চলে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান। জোর করে প্রশাসনিক ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন অম্বিকা রায় ও বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। তৃণমূলের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা।

অভিযোগ, শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি। বাধে তুমুল ঝামেলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসতে হয় কল্যাণী থানার পুলিশকে। কিছুক্ষণ পর ফের, বিজেপি বিধায়ক,বিজেপির কর্মী, সমর্থকরা গেট ঠেলে প্রশাসনিক ভবনের ভিতর জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন। ফের তৃণমূলের বাধার মুখে পড়েন বিধায়ক সহ বিজেপির কর্মী, সমর্থকরা। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে চরম ধাক্কাধাক্কি,হাতাহাতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। ধাক্কাধাক্কির পর্বের পর পুলিশ দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসনিক ভবনের মূল গেটে।

এই প্রসঙ্গে কল্যাণী পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কল্যাণী পৌরসভার পৌর পারিষদ অরূপ মুখার্জি বলেন, ফর্ম-৭ নিয়ে এসে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে চাইছে বিজেপি। আমরা বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে দেব না। প্রশাসনিক ভবন বন্ধ তা সত্ত্বেও এদিন বিজেপির বিধায়ক লোকজন নিয়ে এসে হুলিগানইজম চালিয়েছেন। আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। আমরা কারোর পথ আটকায়নি। আমরা প্রশাসনিক ভবনের উল্টোদিকে ক্যাম্প করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি।

যদিও বিজেপির বিধায়ক অম্বিকা রায় বলেন, ফর্ম-৭ নিয়ে গিয়েছিলাম প্রশাসনিক ভবনে। ঢুকতে বাধা দিয়েছে তৃণমূল। আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। পুলিশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবো। এই ঘটনার পর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।