পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের বারাবনি ও হুগলির ডানকুনি পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরে এবার জেলা বীরভূমের সদর শহর সিউড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা খসড়া ভোটার তালিকায় বারাবনি বিধানসভা এলাকার জীবিত দুই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার মধ্যে একজনকে ‘মৃত’ আর অন্যজনকে ‘নিখোঁজ’ বলে দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায়। হুগলির ডানকুনি পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের জীবিত কাউন্সিলার সূর্য দে-কে খসড়া ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ দেখানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ কাউন্সিলার নিজেই কাশীপুর শ্মশানে পৌঁছে গিয়ে দাবী করেন যে, নির্বাচন কমিশন শ্মশানে এসে তাঁকে দাহ করে যাক। যা নিয়ে রীতিমতো হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়।
এবার এমনই ঘটনা সামনে এসেছে সিউড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্তর বছরের গঙ্গা মালের ক্ষেত্রে। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই ভোট দিয়ে আসছেন। এবার খসড়া ভোটার তালিকায় জীবিত গঙ্গা মালকে ‘মৃত’ বলে দেখানো হয়েছে। ওই বৃদ্ধা পড়াশোনা জানেন না। এই ঘটনায় তাঁর কী করা উচিত তা বুঝতে পারছেন না তিনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই গঙ্গার পাশে দাঁড়িয়েছেন সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী।
তিনি জানিয়েছেন, একজন জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ বলে দেখানোটা মেনে নেওয়া যায় না। ওই বৃদ্ধার নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য যা করনীয়, তা করা হবে। বৃদ্ধা গঙ্গা মালের মেয়ে দেবী মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁর মা শারীরিকভাবে অসুস্থ। হাঁটাচলা করতে পারেন না। ভোটার তালিকায় নাম তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও একবারও আসেননি। তাঁর কাছে গিয়েই মায়ের আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে। এখন ভোটার তালিকায় মায়ের নাম না থাকলে মায়ের বার্ধক্যভাতা, রেশন-সহ সমস্ত রকমের সরকারি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হচ্ছে। তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না, কী করবেন। তবে, স্থানীয় বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বিষয়টি দেখার কথা বলায় তাঁরা স্বস্তি পাচ্ছেন।