চতুর্দশ বর্ষের ‘সংগীত অমৃতম সঙ্গীত সমারোহ’

সংগীত অমৃতম সংস্থাটি কণ্ঠসংগীত শিল্পী ও প্রয়াত কিংবদন্তী তবলাবাদক পণ্ডিত শঙ্খ চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা বিদুষী সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছর এই সংস্থা শাস্ত্রীয় সংগীত পিপাসুদের মনোরঞ্জনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এবার ছিল চতুর্দশ বর্ষ। আর, উত্তর-দক্ষিণ ছিল এবারের ট্যাগলাইন। ‘সঙ্গীত অমৃতম সংগীত সমারোহ’ শীর্ষক এই আয়োজনের শুরু হয় তরুণ যন্ত্রশিল্পী ময়ূখ দাসের সন্তুর বাদনে।

শিবরঞ্জনী রাগের পরিবেশনে তিনি প্রতিভার ছাপ রাখেন। তবলায় ছিলেন অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিমান আবির মুখার্জি। যন্ত্রসঙ্গীতের এবারের এই আয়োজনের দ্বিতীয় শিল্পী ছিলেন সেনিয়া-শাজাহানপুর ঘরের বিশিষ্ট সরোদবাদক পণ্ডিত প্রত্যুষ ব্যানার্জি। তিনি মল্‌হুয়া কল্যাণ রাগে আলাপ ও জোড়ের পর গত্‌ উপস্থাপন করলেন। এরপর হেম-কল্যাণ রাগে একতাল ও ত্রিতালে ছিল উপভোগ্য গতের পরিবেশনা।

তবলায় ছিলেন শুভজ্যোতি গুহ। উত্তর-দক্ষিণ শিরোনামের এই সংগীতের অনুষ্ঠানে শেষের জন্য রাখা হয়েছিল কর্ণাটকী সংগীত। চেন্নাইয়ের সরস্বতী বীণাশিল্পী বিদূষী ড. নির্মলা রাজশেখর একক বাজনার প্রারম্ভ করেন মায়ামালবগৌলেই (হিন্দুস্তানী সমকক্ষ রাগ ভৈরব) রাগে ‘দেব দেব’ (রচনা— মহারাজা স্বাতী তিরুনাল)-এর সুরে (রূপক তাল)। চারুকেশী রাগের আধারে রাগম-তানম এবং পরে ত্যাগরাজের রচনা বাজালেন আদিতালে। মৃদঙ্গমে অরবিন্দ রঙ্গনাথন ও ঘটমে সোমনাথ রায় এরপর তানিয়াবর্তনমে তালবাদ্যের কথোপকথন উপস্থাপন করলেন। নির্মলা এই মনোগ্রাহী বাজনার সমাপন করেন রাগ মধ্যমাবতীতে (হিন্দুস্তানী সমকক্ষ রাগ মধুমাড সারং) সন্ত ত্যাগরাজের একটি পরিচিত রচনা বাজিয়ে। পণ্ডিত শঙ্খ চট্টোপাধ্যায়, পণ্ডিত চিণ্ময় লাহিড়ি, উস্তাদ মুনাবর আলি খাঁ এবং পণ্ডিত কমল ব্যানার্জির স্মৃতির উদ্দেশে এই সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছিল।


—শিল্পী সাম্ভমুর্তি