তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। একাধারে নাট্যশিল্পী, অভিনেতা, শিল্পী, প্রযোজক; তবে নাচ তাঁর প্রথম প্রেম তিনি সবসময়েই বলে থাকেন। এহেন জয়া শীল ঘোষের একক ভরতনাট্যম নৃত্য সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছিল জ্ঞান মঞ্চে। গুরু ডঃ থাঙ্কমণি কুট্টিকে উৎসর্গ করে ছিল এই নান্দনিক আয়োজন । অনুষ্ঠানের সূত্রধর ও তাঁর বিখ্যাত জীবনসঙ্গী তবলামায়েস্ত্রো পন্ডিত বিক্রম ঘোষের কথা অনুযায়ী 2004 সালে মুম্বই শহর থেকে কলকাতা চলে আসেন জয়া। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দুজনে। আর তারপরের বছর অর্থাৎ ২০০৫ সাল থেকে একটানা বারো বছর কলামন্ডলম কলকাতা নৃত্যশিক্ষাকেন্দ্রে তালিম পেয়েছেন গুরুর কাছে। আর একদিনের অনুষ্ঠান ছিল যেনো তাঁকে উৎসর্গ করে ! গুরু দক্ষিণাস্বরূপ। সম্পূর্ণ বাহুল্যবর্জিত অথচ ছিমছাম এই অনুষ্ঠানে নাচই ছিল যেন একমাত্র কথা বলবার ভাষা।
প্রারম্ভিক মুখবন্ধের পর পরই ছিল একেকটি নৃত্যপদ । বিশিষ্ট নৃত্য ব্যক্তিত্ব টি. বালাসরস্বতীর ‘মার্গম’ অনুসরণে ছিল এদিনের উপস্থাপনাগুলি । একে একে জয়া পরিবেশন করেন- আলারিপু (রাগ নাটৈ, তাল মিশ্র চাপু), জাতিস্মরম (রাগ কল্যাণী, তাল রূপক), শবদম (রাগমালিকা, তাল মিশ্রচাপু), বর্ণম (রাগ ধন্যাসী, তাল আদি), নাটানামাডিনার (রাগ বসন্তা, তাল খণ্ডজাতি ত্রিপুট), পদম (রাগ মোহনম, তাল আদি), তিল্লানা (রাগ বৃন্দাবনী, তাল আদি) । শেষে ছিল শ্লোকম্ যেটি গুরু স্তোত্রম্ থেকে নেওয়া ও গুরুর প্রতি উৎসর্গকৃত। উল্লেখ্য যে, পরিবেশিত অধিকাংশ নৃত্যপদের রচনাকার গুরু ডঃ থাঙ্কমণি কুটি। আর, পদম ‘ইয়াহি মাধবম’ (তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন পঙ্কজ সিংহ রায়) ও গুরুস্তোত্রের নৃত্যভাবনা করেছেন জয়া (তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন মোহনা আইয়ার)। উপভোগ্য এই নৃত্য সন্ধ্যায় সহযোগী হিসেবে ছিলেন – গুরুপুত্র সুকুমার কুটি (কন্ঠ), শংকর নারায়ণস্বামী (মৃদঙ্গম), গুরুভগিনী মোহনা আইয়ার (ভাষ্যকার ও নাট্টুভঙ্গম), আনন্দ আর জয়রাম (বেহালা), ঋক মুখার্জি (বাঁশি)।
এই উপলক্ষে ছিল বিশিষ্ট জনের সমাবেশ। গুরু ডঃ থাঙ্কমণি কুটি উপস্থিত ছিলেন এই সন্ধ্যায় । গৌহাটি শহর থেকে এসেছিলেন জয়ার মা মালা শীল ও ভগিনী আঞ্জুমা শেখ। জয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরব ঘোষ, গুরু অভয় পাল, ভারতীয় বিদ্যাভবন (কলকাতা) অধিকর্তা ডঃ. জি. ভি. সুব্রামনিয়ণ, গুরুভগিনী তানিয়া দেওয়ানজি, ইলিনা বোস প্রমুখজনদের উপস্থিতিও দেখতে পাওয়া গেল।