মৃণাল কথা: সীমার মাঝে অসীম সাধনা

নিজস্ব চিত্র

গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় কলকাতার জ্ঞানমঞ্চে এসপিসি ক্রাফ্ট-এর নিবেদনে অনুষ্ঠিত হল ‘মৃণাল কথা— সীমার মাঝে অসীম সাধনা’।

এই অনুষ্ঠানটি মূলত ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী এবং ঋষি অরবিন্দ ঘোষের স্ত্রী মৃণালিনী বসু— এই দুই মৃণালিনীর মধ্যে একটি কাল্পনিক কথোপকথন। অর্থাৎ দুই কালের এক কাল্পনিক সমন্বয়।

ঐতিহাসিক তথ্য ও ঘটনাবলীকে সম্পূর্ণ মর্যাদায় রেখে দুই মহীয়সী নারীর জীবনে সাধনা, ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে একই সূত্রে গেঁথে তোলার সম্পূর্ণ ভাবনা, পরিকল্পনা এবং রূপায়ণ সঙ্গীতশিল্পী রিনা দোলন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অসাধারণ সঙ্গীত নির্বাচন ও পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি এক নতুন মাত্রা পায়।


রিনা দোলনের কণ্ঠে পরিবেশিত প্রতিটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের গভীরতার মধ্য দিয়ে ভাবের যে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, তা শ্রোতাদের গভীরভাবে আপ্লুত করেছিল।

স্বপনপারের ডাক ধীরে ধীরে প্রাণের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে পৌঁছে গিয়েছিল নিভৃত প্রাণের দেবতার অন্তরে। মৃণালিনী দেবীর ধৈর্য, ত্যাগের নীরব ভাষা ও আত্মিক ভালবাসার এক অনিন্দ্যসুন্দর প্রকাশ ঘটেছিল তাঁর কণ্ঠে, যে কণ্ঠের জাদু স্পর্শ করেছে অন্তরের অন্তরতম স্থলে। এক কথায়, ‘মৃণাল কথা’ নিছক একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল দুই মহীয়সী নারীর শিল্পকথা।

এই অনুষ্ঠানের আরও‌ দু’জনের কথা বলা অত্যন্ত আবশ্যক। তাঁরা হলেন পৌলমী চট্টোপাধ্যায় ও সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। পৌলমী চট্টোপাধ্যায় ও সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের অনুপম পাঠ ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এই শিল্পীকথা হয়ে ওঠে সর্বাঙ্গসুন্দর । দুই মৃণালিনীর চরিত্র চিত্রায়নে এঁদের অভিনয় এতটাই প্রাণবন্ত, আবেগপূর্ণ ও একাত্মতায় পরিপূর্ণ ছিল যে, উপস্থিত সকল দর্শক ও শ্রোতারাও নিজেদের অজান্তেই মিশে গিয়েছিলেন গভীর অন্তরঙ্গতার সঙ্গে। তাঁদের স্বরক্ষেপণে প্রতিটি শিরায়‌ শিরায় অনুভূত হয়েছিল অপূর্ব এক কম্পন। এ এমন এক উপহার যা উপস্থিত সকল শ্রোতার হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।‌ যন্ত্রানুষঙ্গে সুরজিৎ দাস অনির্বচনীয়। সমগ্র অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন মেহেন্দি চক্রবর্তী। —মোনালী সরকার