গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অহীন্দ্র মঞ্চে হয়ে গেল পঁচাশিতম বর্ষের চেতলা মুরারী স্মৃতি সংগীত সম্মেলনী। সংগীত সম্মেলন, চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে। প্রদীপ প্রজ্বালন করে এই দু’দিনব্যাপী সান্ধ্যকালীন আসরের সূচনা করেন সংস্থার সভাপতি মনোতোষ দাশগুপ্ত।সঙ্গে ছিলেন সচিব দিলীপ মিশ্র ও সহ-সচিব দীপ্তেশ মিশ্র। এবারের অধিবেশনটি প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী নির্মলা মিশ্রের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
প্রথম সন্ধ্যার আসরে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনে অংশ নেন সংস্থা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা। আর, অতিথি শিল্পীরা এদিনের আসরে মূলত আধুনিক গান পরিবেশন করেন। নির্মাল্য রায় (বেহালা), অঙ্কনা বাগানি, সোনালী প্রামাণিক (রবীন্দ্রসংগীত), সুকন্যা সরকার (নজরুলগীতি), প্রণব মজুমদার (ভরতনাট্যম), শুভাদ্রিতা দাস (রবীন্দ্র নৃত্য), বর্ণজিত পাল (ভজন), সোহিনী দাস (আধুনিক), মেঘনা চৌধুরী (গজল)– এদিন অংশগ্রহণ করেন। সচিব দিলীপ মিশ্র তাঁর ‘রাঙাপিসি’ নির্মলা মিশ্র সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করেনন।
আমন্ত্রিত শিল্পীদের মধ্যে দিশা রায়, তনিকা ভট্টাচার্য ও দেবমাল্য চট্টোপাধ্যায় গেয়ে শোনান নির্মলা মিশ্রের দুটি করে গান। ভাল লাগে সুতপা ভট্টাচার্যের পরিবেশনা এবং পরে অলোক রায়চৌধুরীর গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ও মজাদার প্যারডি গান। সঙ্গীতা মুখোপাধ্যায়, শ্রুতি সাধু, ড. পার্থসারথি, ড. পার্থ মণ্ডল, গৌতম ঘোষাল ছিলেন এই সন্ধ্যার অন্যতম সংগীতশিল্পী। সবশেষে বিদূষী হৈমন্তী শুক্লা নির্মলা মিশ্রের স্মৃতিচারণা করেন। এরপর তাঁর পছন্দের ভজন “সারে হিয়ে নন্দ তিহারো” (নন্দ রাগে), “গিরিজাপতি মহাদেব নীলকণ্ঠ” (দেশী টোড়ি রাগে) পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানেও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা অংশগ্রহণ করেন। উর্জসী ভট্টাচার্য (ওড়িশী), বকুল চট্টোপাধ্যায় (কত্থক), অর্জুন রায় (কন্ঠসংগীত), দেবস্নেহা চ্যাটার্জি (সেতার), আহির বন্দ্যোপাধ্যায় (সরোদ), শ্রেয়া ভট্টাচার্য (তবলা), তাপস বালা (সন্তুর)– এইসব শিল্পীরপরিবেশনা ভালো লাগে। অতিথি শিল্পীদের মধ্যে প্রথমেই দেবর্ষি ভট্টাচার্য রাগ শ্রী আধারে শোনালেন তিনখানি বন্দিশ– “সাঝ ভয়ি” (বিলম্বিত), “অব মোরি বাত” (রচনা বড়ে রামদাসজি) এবং ত্রিতালে “সুন সুনেরি” (দ্রুত)। মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনে সঙ্গত করেন বিভাস সাংহাই (তবলা) ও হিরণ্ময় মিত্র (হারমোনিয়াম)। রাগেশ্রী দাস শোনান একটি ঠুংরি ও দাদরা। এই সন্ধ্যার সর্বশেষ আকর্ষণ ছিল পদ্মশ্রী পণ্ডিত স্বপন চৌধুরীর একক তবলা লহরাপর্ব। তিনি জনপ্রিয় ত্রিতালকেই বেছে নেন উপস্থাপনের জন্য। এটি তাঁর প্রিয় তাল আর সে কারণেই এই চয়ন বলে জানালেন। উপভোগ্য এই বাজনার পর্বে হারমোনিয়ামে নগমা রাখেন হিরণ্ময় মিত্র। দুই সন্ধ্যায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন- দেবাশিস বসু ও মধুমিতা বসু। —শিল্পী সাম্ভমূর্তি