বাঙালির পয়লা বৈশাখ

ফাইল চিত্র

হরনাথ চক্রবর্তী

বাঙালিদের কাছে পয়লা বৈশাখ মানেই যেন অন্যরকম এক আবহ। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে জামা-কাপড়, প্রতি বছরেরই এই দিনটায় যেন টলিপাড়ার পরিবেশটাই পাল্টে যেত। তখনকার সময়ে লাইন ধরে মহরত হতো। পয়লা বৈশাখ আর অক্ষয় তৃতীয়ায় বড় করে মহরত হতো। আমার নিজের ছবি হয়েছে, অঞ্জনদার ছবি হয়েছে, প্রভাতদার ছবি হয়েছে। মহরতে ভিড়ের জন্য সিনেমা হলের পাঁচিল ভেঙে গিয়েছিল, শুটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

একদিকে মিঠুনদা, আরেক দিকে আর ডি বর্মন। আর ডি বর্মন এসেছিলেন অঞ্জনদার ছবিতে আর মিঠুনদা এসেছিলেন প্রভাতদার ছবিতে। বছরের ৪টে দিন নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা থাকত। পয়লা বৈশাখ, অক্ষয় তৃতীয়া, রথযাত্রা এবং মহালয়া। ‘নবাব’ বলে একটা সিনেমা করেছিলাম। পয়লা বৈশাখের মহরতে সেই ছবির খাওয়া-দাওয়া হয়েছিল। তখন একটা গোটা দৃশ্য প্রথমে শুটিং করা হতো, তারপরেই আমাদের অনুষ্ঠান শুরু হতো। প্রেস আসত, ছবি তুলত।


একটা অন্যরকম পরিবেশ ছিল। কার্ড ছাপানো হতো, সেই কার্ড বিলি করা হতো। কলা গাছ বসানো হতো, পুজো হতো। সব মিলিয়ে জমজমাট একটা পরিবেশ ছিল তখন। এখন সব হারিয়ে গেছে। এখন পয়লা বৈশাখের কিছুটা ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কলেজ স্ট্রিট। আমরা কলেজ স্ট্রিটে বই কিনতে আসতাম, সোনার দোকানে যেতাম ক্যালেন্ডারের জন্য। সিঙ্গারা, মিষ্টি, সন্দেশ এগুলো তো থাকতই। এখন পয়লা বৈশাখে বাংলা ছবির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। খুব বেশি হলে এখন ৩০-৩৫টা ছবি হচ্ছে। এখন আর মহরত হয় না। এখন ছবির শুটিং শেষ হলে পার্টি হয়, আর ছবি মুক্তি পাওয়ার পরের সপ্তাহে আরেকটা পার্টি হয়। এক একজন শিল্পী ৩-৪ জায়গায় একদিনে শুটিং করত মহরতে। সেই কালচারটা এখন আর নেই।