শহরের বাগবাজারে গৌড়ীয় মঠে শুরু হয়েছে চন্দনযাত্রা মহোৎসব। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহের মধ্যেই ভক্তদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজন। আগামী ১০ মে পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে চলবে এই উৎসব।
প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা আচার-অনুষ্ঠান, নামসংকীর্তন ও পূজা। ভক্তদের উপস্থিতিতে প্রতিদিনই যেন এক আলাদা আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যার আরতি ও কীর্তনের সময় গোটা এলাকা ভরে উঠছে ভক্তিমূলক সুরে, যা স্থানীয়দের মনেও গভীর প্রভাব ফেলছে।
এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য গ্রীষ্মকালে শ্রীকৃষ্ণকে শীতল রাখা। চন্দন, সুগন্ধি ফুল ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ভগবানের অঙ্গ শীতল ও সুগন্ধিত করা হয়। গৌড়ীয় মঠের আচার্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্নাসী মহারাজ বলেন, ‘গৌড়ীয়রা গরমকালে সুগন্ধি ফুল ও চন্দনের মাধ্যমে কৃষ্ণের অঙ্গকে শীতল ও সুগন্ধিত করেন। এতে কৃষ্ণ সন্তুষ্ট হন। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।’
তিনি আরও জানান, ‘চন্দনযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি ভক্তি ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সাধনা। এই সময়ে ভগবানের উদ্দেশে চন্দন অর্পণের মাধ্যমে ভক্তরা তাঁর সঙ্গে আত্মিক সংযোগ গড়ে তোলেন। সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম।’
উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিনই ভক্তদের ভিড় বাড়ছে। বাগবাজারের এই প্রাচীন ধর্মীয় কেন্দ্রে ভক্তদের আনাগোনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশ শহরের ব্যস্ত জীবনে এনে দিচ্ছে এক অন্যরকম প্রশান্তি।