সল্টলেক কালচারাল এসোসিয়েশনের উদ্যোগে উনচল্লিশতম বর্ষের সল্টলেক মিউজিক ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হল জানুয়ারির ১১ ও ১২ তারিখে। প্রয়াত তবলাসম্রাট জাকির হুসেনের নামে উৎসর্গ করা এই অনুষ্ঠানের প্রথমটি হয় ই.জেড.সি.সি-র ঐকতান মঞ্চে, আর অপরটি সল্টলেকের রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবনে। সংস্থার তরফে এবার সংগীতরত্ন পুরস্কার লাভ করেন— পণ্ডিত অরূপ চট্টাপাধ্যায়। এই বছরের যদুভট্ট সন্মান প্রাপকেরা হলেন— রোজি দত্ত ও বিষ্ণুপ্রিয়া চক্রবর্তী এবং ময়ূখ দাস।
প্রথম সন্ধ্যার প্রথম শিল্পী ছিলেন প্রিয়াঙ্কা মিত্র। কন্ঠনিবেদনে রাগ ইমন পরিবেশনের এই পর্বে তার সহযোগী ছিলেন— তবলায় সুদীপ চক্রবর্তী ও হারমোনিয়ামে অভিজিত চক্রবর্তী। গুরু-শিষ্য পরম্পরায় তালিমপ্রাপ্ত মাইহার ঘরাণার বিশিষ্ট সেতারবাদক পণ্ডিত শুভেন্দ্র রাও বিস্তারিতরূপে শুদ্ধ-বসন্ত রাগটিকে পরিবেশন করেন; আর পরে মন ভরান মাঝ-খাম্বাজ মাধ্যমে। তবলায় তাঁকে অনন্য সহযোগ দেন অমিত চ্যাটার্জি। এই সন্ধ্যার সমাপন হয় কোয়েল দাশগুপ্ত-নাহার কন্ঠ পরিবেশন মাধ্যমে।তবলা ও হারমোনিয়ামে তাকে সহযোগিতা করেন— ইন্দ্রনীল মল্লিক ও সায়ন চ্যাটার্জি। তরুণ সন্তুর বাজিয়ে ময়ূখ দাসের রাগ সরস্বতী পরিবেশন মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্ধ্যার সূচনা হয়। সঙ্গে তবলায় ছিলেন বোধিমন দাশগুপ্ত।
সোহিনী রায়চৌধুরি এরপর রাগ মধুবন্তীতে খেয়াল ও পরে মিশ্র খাম্বাজে একটি ঠুংরি গেয়ে শোনান। জনাব আসিফ খাঁলতবলায় ও সায়ন চ্যাটার্জি হারমোনিয়ামে সহযোগিতা প্রদান করেন।সরোদে মল্লার রক্ষিত রাগ ঝিঁঝিট বাজান; তবলায় ছিলেন অর্কেন্দু মিত্র। কিরানা ঘরাণার গাইয়ে অর্ণব চ্যাটার্জি প্রথমে রাগ গোরখ কল্যাণে খেয়াল ও পরে পিলু আশ্রিত দাদরা পরিবেশন করেন। তাঁর সহযোগী ছিলেন-তবলায় মিহির কুন্ডু ও প্রদীপ পালিত হারমোনিয়ামে। আর এই সন্ধ্যার সমাপন ঘটে পণ্ডিত দেবাশিষ ভট্টাচার্য ও তাঁর পুত্র সূর্যদীপ্তের একযোগে গীটারে রাগ বেহাগ পরিবেশন মাধ্যমে। তাদের তবলায় সহযোগী হন পণ্ডিত অরূপ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সোনালী চট্টোপাধ্যায়। যৌথভাবে সহযোগিতা করেছিল ওঙ্কারনাথ মিশন পরম্পরা ও ভারতীয় বিদ্যাভবন (কলকাতা)।
—শিল্পী সাম্ভমুর্তি