মার্কিন শুল্ক কমায় ভারত ফিরে পাবে বিশ্ব-বাজার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আমেরিকার বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত কি এ বার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবে? এই প্রশ্নই উঠে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্ক সিদ্ধান্তের পর। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারতের উপর আরোপিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতের উপর শুল্কের হার এখন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চিন-সহ এশিয়ার একাধিক দেশের তুলনায় কমে গেল।

বর্তমানে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের পণ্যের উপর ২০ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ রয়েছে। এই দুই দেশই বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। এতদিন ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক থাকায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। ফলে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের একটি বড় অংশ বাজার হারিয়েছিল। তবে নতুন শুল্ক কাঠামোয় ভারতের উপর শুল্ক কমে যাওয়ায় ফের সেই হারানো বাজারের একটি অংশ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভারতের অনুকূলে যাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। সেই চুক্তির পরে বাংলাদেশের উপর মার্কিন শুল্কের হার কত দাঁড়ায়, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ।


বস্ত্র রপ্তানির বাজারে চিনও ভারতের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমানে চিনের উপর আমেরিকা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে, যা ভারতের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই ব্যবধানের ফলে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় বস্ত্র ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর শিল্প কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একইভাবে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উপরেও মার্কিন শুল্কের হার প্রায় ১৯ শতাংশ।