কেন আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে টানা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধকে ঘিরে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। যার জেরে ক্রমেই দুর্বল হয়েছে ভারতীয় টাকার দাম। সেই সঙ্গে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতিও। অবশেষে দীর্ঘ সময় বাদে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি। সেই সঙ্গে খুলতে চলেছে হরমুজ প্রণালীও। আর এই চুক্তি সমগ্র বিশ্বের পাশাপাশি ভারতের জন্যেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত তার চাহিদার ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। আর তা করে থাকে এই হরমুজ প্রণালী মারফতই। যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত রুট হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে তেলের আমদানির জন্য। আর যা সরাসরি প্রভাব ফেলে আমদানি, রফতানি থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে।

যদিও জানা যাচ্ছে এই শান্তিচুক্তি কিছু সমস্যার সমাধান করবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন এই চুক্তির ফলে কিছুটা তেলের দামে প্রভাব পড়বে। আর তার ফলে কিছুটা হলেও কমতে পারে এই তেলের দাম। আর তা সরাসরি স্বস্তি দেবে ভারতের অর্থনীতিকে। কারণ এই দুই দেশের যুদ্ধের ফলে পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল মুদ্রাস্ফীতি। আর তার প্রভাব পড়েছিল ভারতের অর্থনীতিতে। একাধিক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের মুদ্রাস্ফীতির হার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ২.২ শতাংশ। তা একলাফে পৌছে গিয়েছিল ৯.৭ শতাংশতে। তার অন্যতম কারণ ছিল এই তেলের দাম বৃদ্ধি।


আরও মনে করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে তেলের দামে। আর তা কিছুটা হলেও দাম কমাবে অপরিশোধিত তেলের। তেল ছাড়াও অন্যান্য জিনিস পরিবহণের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সহজ হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি পশ্চিম  এশিয়াতে জিনিসপত্র রফতানি করার ক্ষেত্রেও অনেকটা সুবিধা পাবে ভারত। ইতিমধ্যেই ভারতীয় টাকা ফের আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী হতে শুরু করেছে। আর তা অত্যন্ত আশার ইঙ্গিত ভারতের জন্য। তবে এই চুক্তি সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে তা সব থেকে বড় প্রশ্ন। যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম কম হলে তেল সহ অন্যান্য জিনিসের দাম কম হয়। কিন্তু উপভোক্তারা দ্রুত কোনো আশানুরূপ ফল পাবেন এমনটা মনে করছেন না অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমদানি খরচ কম হলে তা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুবিধার। যদিও ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছে বিদেশি বিনিয়োগ চলে গিয়েছে ভারত থেকে। আর তার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। যদিও আরবিআই শক্ত হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। তবু ভারতের তরফে চেষ্টা চালানো হচ্ছে পরিস্থিতির উপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। আর সেখানে যদি এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যায় তাহলে তা আম জনতার জন্য অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ।