সিকিমের এই বাসিন্দাদের দিতে হয় না কোনও আয়কর

দেশজুড়ে আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) জমা দেওয়ার ব্যস্ততা যখন তুঙ্গে। তারই মাঝে এমন একটি রাজ্য আছে যেখানকার কোনও বাসিন্দাকেই আয়করের কোনও ঝামেলায় পোয়াতে হয় না. কারণ জানান। আসলে তাঁদের কোনও আয়কর দিতে হয় না। ভারতের প্রতিটি নাগরিককেই আয়কর দিতে হলেও দেশের একটি রাজ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির বাসিন্দারা এখনও আয়কর থেকে সম্পূর্ণ ছাড় পান। সেই রাজ্য হল সিকিম। তবে এই সুবিধা সকল বাসিন্দার জন্য নয়, শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী ‘সিকিমিজ’ হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।
এর নেপথ্যে রয়েছে সিকিমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার পর থেকেই সিকিম ভারতের অংশ ছিল না। দীর্ঘদিন এটি একটি স্বাধীন রাজতন্ত্র বা ‘কিংডম অব সিকিম’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭৫ সালে গণভোটের মাধ্যমে সিকিম ভারতের ২২তম রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই সময় সিকিমের স্বতন্ত্র পরিচয়, আইন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষার জন্য ভারতীয় সংবিধানে বিশেষভাবে অনুচ্ছেদ ৩৭১এফ সংযোজন করা হয়।
এই সাংবিধানিক ব্যবস্থার ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ১০(২৬এএএ) ধারায় ‘সিকিমিজ’ হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই ছাড়ের উদ্দেশ্য ছিল, ভারতের সঙ্গে সিকিমের সংযুক্তির আগে যাঁরা সেখানকার স্থায়ী ও স্বীকৃত বাসিন্দা ছিলেন, তাঁদের ঐতিহাসিক ও আইনি অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা।
তবে সিকিমে বসবাস করলেই এই করছাড়ের সুবিধা মেলে না। অন্য কোনও রাজ্য থেকে সিকিমে গিয়ে বসবাস শুরু করলেই কেউ ‘সিকিমিজ’ হিসেবে গণ্য হন না। আইন অনুযায়ী স্বীকৃতি না থাকলে তাঁকে দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতোই প্রচলিত আয়কর আইন মেনে কর দিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইটিআরও জমা করতে হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি কোনও নতুন সরকারি প্রকল্প বা সাম্প্রতিক কর-ছাড় নয়। বরং সিকিম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময় যে সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে এই বিশেষ সুবিধা এখনও বহাল রয়েছে। সেই কারণেই ভারতের একমাত্র রাজ্য হিসেবে সিকিমে যোগ্য ‘সিকিমিজ’ নাগরিকরা আজও আয়কর থেকে বিশেষ ছাড় ভোগ করেন।