১ এপ্রিল থেকে আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে চলেছে। করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং কিছু ক্ষেত্রে কর কাঠামো স্পষ্ট করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই নিয়মগুলি কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী রিভাইজড আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে করবর্ষ শেষ হওয়ার পর ৯ মাসের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যেত, এখন তা বাড়িয়ে ১২ মাস করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ৯ মাসের সময়সীমা পেরিয়ে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা দিতে হবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা হবে ১০০০ টাকা এবং এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা ৫০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
শেয়ার বাজারে ফিউচার ও অপশন (এফএন্ডও) ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (এসটিটি) বাড়ানো হয়েছে। অপশন বিক্রির ক্ষেত্রে এসটিটি ০.১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিউচার বিক্রির ক্ষেত্রে এসটিটি ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করা হয়েছে।
বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য লিবারালাইজ়ড রেমিট্যান্স স্কিম (এলআরএস)-এর আওতায় কর সংগ্রহ (টিসিএস) কমানো হয়েছে। ১০ লক্ষ টাকার বেশি খরচের ক্ষেত্রে আগে যেখানে ৫ শতাংশ টিসিএস দিতে হতো, এখন তা কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বিদেশে ভ্রমণের ট্যুর প্যাকেজের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ টিসিএস ধার্য থাকবে।
এতদিন কোনও সংস্থা শেয়ার বাইব্যাক করলে বিনিয়োগকারীরা যে অর্থ পেতেন, তা ডিভিডেন্ড হিসেবে গণ্য করে কর বসানো হতো। নতুন নিয়মে এই অর্থকে মূলধনী লাভ বা ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী কর ধার্য হবে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নির্ধারিত ইস্যু মূল্যে সভারিন গোল্ড বন্ড কিনলে, শুধুমাত্র সেই ইস্যু মূল্যের সীমা পর্যন্ত রিডেম্পশনের ক্ষেত্রে কর ছাড় পাওয়া যাবে।
গাড়ি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি হলে তার উপর সুদ দেওয়া হয়। এতদিন শুধুমাত্র সুদের উপর কর বসত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে এই ক্ষতিপূরণ ও তার সুদ— দু’টিই সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রের মতে, এই পরিবর্তনগুলির ফলে আয়কর কাঠামো আরও স্বচ্ছ হবে এবং করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হবে।